বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা একাডেমিক বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। আসন্ন প্রোগ্রামে হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি, এবং সহযোগিতায় রয়েছে আইসিটি বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যা গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ইবির জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য “Digital Technologies for the Future World”, যা উদীয়মান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিশ্বের রূপান্তরকে প্রতিফলিত করবে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘বিশ্বের ২৬টি দেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদরা এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। ২৬ টা দেশের মোট ৭৯০টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১০৩ টি বিদেশি এবং ১২৬ টি দেশীয় সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধ জমা পড়ে। যার মধ্যে ২৬৪টি প্রবন্ধ কঠোর রিভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপনার জন্য গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, কম্পিউটার ভিশন, অ্যালগরিদম ও কম্পিউটেশনসহ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করা হবে।’
সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার ও সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘COMPAS 2025 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। এটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক মিলনমেলা। আমরা আশা করি, এই আয়োজন ভবিষ্যতে দেশের গবেষণা সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নেবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা কিনোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে অনলাইনে কিনোট স্পিকার হিসেবে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার এবং ফিজিক্যালি উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান, বুয়েটের অধ্যাপক ও বর্তমান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও ডিনার শেষে অতিথিদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হবে। COMPAS 2025 আয়োজনের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করল যে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বমানের মঞ্চে।