ইউরোপজুড়ে ২৬ অক্টোবর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঢাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে সকল ক্লাস অনলাইনে — শীতকালীন ছুটি অনিশ্চিত ঝিনাইদহে কুলখানি–বিতর্কে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া

ইউরোপজুড়ে ২৬ অক্টোবর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে

সালমান বক্স, ইউরোপ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯০ বার দেখা হয়েছে

ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে, ইউরোপ ফিরছে শীতকালীন সময়ে

ইউরোপজুড়ে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর, রবিবার রাত তিনটায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছিয়ে দুইটা করতে হবে। এদিনই শেষ হবে ‘ডে-লাইট সেভিং টাইম’ বা গ্রীষ্মকালীন সময়, যা মার্চ মাসের শেষ রবিবার থেকে কার্যকর ছিল। সময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশগুলো শীতকালীন সময় বা স্ট্যান্ডার্ড টাইমে ফিরে যাবে।

‘ডে-লাইট সেভিং টাইম’ মূলত দিনের আলোকে সর্বাধিক ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এবং পরে তা ইউরোপজুড়ে গৃহীত হয়। গ্রীষ্মকালে দিনের সময় দীর্ঘ হওয়ায় ঘড়ি এক ঘণ্টা এগিয়ে দিলে সকালে সূর্য ওঠার পর থেকেই কার্যদিবস শুরু করা যায় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা কমে আসে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সময় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরণে পরিবর্তনের কারণে অনেকের মতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা এখন তেমন নেই। পাশাপাশি, বছরে দুইবার সময় পরিবর্তনের ফলে মানুষের ঘুমের ছন্দ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামান্য প্রভাব পড়ে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কেউ কেউ বলেন, সময় পরিবর্তনের পর প্রথম কয়েকদিন ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়, যা শরীরের জৈব ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এবারের সময় পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে সকালগুলো হবে কিছুটা উজ্জ্বল, তবে সন্ধ্যা নামবে আগেভাগেই। অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিনে এর প্রভাব পড়বে। সকালে কাজে বের হওয়া মানুষ কিছুটা সুবিধা পেলেও বিকেলে ফেরার সময় আগেভাগেই অন্ধকার নামবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ—যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র—একই দিনে এই সময় পরিবর্তন কার্যকর করবে, যাতে মহাদেশজুড়ে সময়ের সমন্বয় বজায় থাকে।

২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সময় পরিবর্তনের এই প্রথা বাতিলের প্রস্তাব পাস করে, যাতে প্রতিটি দেশ নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা এই প্রথা বজায় রাখবে কি না। যদিও প্রস্তাবটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, অনেক দেশ এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকের মতে, বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে একটিমাত্র স্থায়ী সময় রাখা উচিত।

তবে যতদিন না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, ততদিন ইউরোপবাসীদের বছরে দুইবার এই ঐতিহ্যবাহী সময় পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর রাত তিনটায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানোর সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপজুড়ে শুরু হবে শীতকালীন সময়—সকালগুলো হবে উজ্জ্বল, আর সন্ধ্যা নেমে আসবে একটু আগেভাগেই।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT