
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগরাম বিমান ঘাঁটি ফেরতের হুঁশিয়ারির জবাবে তালেবান সরকার জানিয়েছে, দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা তাদের জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমেরিকার সঙ্গে হওয়া সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে।”
শনিবার ট্রাম্প এক বার্তায় বলেন, “আফগানিস্তান যদি বাগরাম বিমান ঘাঁটি ফেরত না দেয়, তবে খারাপ কিছু ঘটবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাগরাম ঘাঁটি আমরা ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল না, এটি রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। আফগানিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আমরা শিগগিরই ঘাঁটিটি ফেরত চাই।”
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা শক্তি ব্যবহার করা হবে না। আমেরিকার উচিত এই প্রতিশ্রুতি মেনে চলা।” তিনি অতীতের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে যুক্তিনির্ভর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগানিস্তান শরিয়াহর নীতির আলোকে ভারসাম্যপূর্ণ এবং অর্থনীতি-কেন্দ্রিক বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করছে। এর মাধ্যমে দেশটি সব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
বাগরাম বিমান ঘাঁটি আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশে অবস্থিত এবং কাবুল থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানরা ঘাঁটিটি দখল করে এবং পরবর্তীতে “ভিক্টরি ডে” নামে জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে, যেখানে তারা আমেরিকার কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাগরাম ঘাঁটি পুনরায় দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে চীনের পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী অবস্থান বিবেচনায়। তবে তালেবান সরকার তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না।
এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিশ্লেষকরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।