গত ৯ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন-২০২৫। দীর্ঘ ছয় বছর পর ফিরে আসা এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল নজরকাড়া; প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

শীর্ষ পদে বিজয়ী হয়েছেন সভাপতি (VP) আবু সাদিক কায়েম (১৪,০৪২ ভোট), সাধারণ সম্পাদক (GS) এস এম ফরহাদ (১০,৭৯৪ ভোট) এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (AGS) মহিউদ্দিন খান (১১,৭৭২ ভোট), যারা তিনজনই শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জুমা (১০,৬৩১ ভোট), বিজ্ঞান সম্পাদক ইকবাল হোসেন (৭,৮৩৩ ভোট), কমনরুম সম্পাদক উম্মে সালমা (৯,৪৩৫ ভোট), আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম (৯,৫৬৯ ভোট), সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ (৭,৪৫৬ ভোট), গবেষণা সম্পাদক তন্বি (১১,৪৫৬ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন (৭,২৩৪ ভোট), পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ (৯,১৩৪ ভোট), সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (৭,৪৩৪ ভোট), ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম (৯,৩৪৪ ভোট), স্বাস্থ্য সম্পাদক মিনহাজ আল (৭,০৩৮ ভোট) এবং আইন সম্পাদক মো. সাখাওয়াত জাকারিয়া (১১,৭৪৭ ভোট)।
এই পদগুলোর মধ্যে তিনটি ছাড়া বাকি সবই শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া সদস্য পদে ১৩টি আসনে জয়লাভ করেছেন: সাবিকুন নাহার তামান্না (১০,৪৫৬ ভোট), সর্ব মিত্র (৮,৯১৬), ইমরান (৬,২৪০), আফসানা (৫,৭০০), রায়হান (৫,৬০০), মিফতাউল মারুফ (৫,৩৪০), তাজিনুর (৫,২৪০), আনাস ইবনে মুনীর (৫,১৪০), হেমা (৪,৯০০), রাইসুল (৪,৫০০), শাহীনুর রহমান (৪,৩৯০), রাফিয়া (৪,২০৯) এবং অপু খান (৪,১২৭ ভোট)।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন উৎসবমুখর ও সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। যদিও বিরোধী প্রার্থীরা নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অনেকের মতে, “শিবির প্রার্থীরা গত এক বছরে বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। যেখানে অন্যান্য দলগুলো কোন্দল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জর্জরিত ছিল, সেখানে শিবির শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছেন। আর এটিই তাদের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মূল কারণ।”