বাংলায় হিন্দুরা হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে: সাংবাদিক সুব্রত বসু - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

বাংলায় হিন্দুরা হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে: সাংবাদিক সুব্রত বসু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৭ বার দেখা হয়েছে
মারাঠা কর্তৃক তৎকালীন বাংলায় হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক সুব্রত বসু, ছবি: ইউটিউব
মারাঠা কর্তৃক তৎকালীন বাংলায় হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক সুব্রত বসু, ছবি: ইউটিউব

“হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই”—এ স্লোগান আজ ভারতে খুবই প্রচলিত। প্রচার করা হয়, হিন্দুদের কোনো বিপদ হিন্দুদের ভেতর থেকে নয়, সব বিপদের মূল দায়ী অন্য ধর্মাবলম্বীরা, বিশেষ করে মুসলিমরা। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাংবাদিক সুব্রত বসু তার ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে তুলে ধরেছেন, হিন্দুরাই যে হিন্দুদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে, তার এক করুণ দৃষ্টান্ত হলো বাংলার ইতিহাসের কুখ্যাত অধ্যায়—মারাঠাদের বর্গী হানা।

আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে মারাঠাদের আগ্রাসন বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসে দুর্যোগ হয়ে। স্থানীয়রা যাদের ডাকত “বর্গী,” তারা শুধু লুটপাটেই থেমে থাকেনি—চালিয়েছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন। সুব্রত বসুর বর্ণনায়, এই আক্রমণে প্রায় চার লক্ষ বাঙালি প্রাণ হারিয়েছিলেন, আর তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছিলেন হিন্দু।

হাজার হাজার হিন্দু নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন, অগণিত মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেন। রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ভিটে-মাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন হাজার হাজার মানুষ। বাংলার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় একরকম।

এই হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী ছিলেন মারাঠা বর্গীরা—যারা নিজেরাও হিন্দু। ফলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্মের এক পরিচয়ের ভেতর থেকেও কখনো কখনো ভয়াবহ আগ্রাসন নেমে আসতে পারে।

এমন এক করুণ অতীত থাকা সত্ত্বেও আজকের ভারতে প্রচার করা হচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বলা হচ্ছে, হিন্দুর সব বিপদ আসে বাইরের ধর্ম থেকে। অথচ ইতিহাস স্পষ্ট জানায়, হিন্দুরাই হিন্দুদের ওপর রক্তাক্ত হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বাংলার মাটিতে।

সুব্রত বসু এ প্রসঙ্গে বলেন, “ইতিহাস যদি আমাদের স্মরণে থাকত, তবে হয়তো এত বিভ্রান্তি তৈরি হতো না। আজ বলা হচ্ছে মুসলমানরা হিন্দুদের শত্রু, কিন্তু আমাদের ইতিহাস বলে, হিন্দুরাই একসময় হিন্দুদের ওপর নেমে এসেছিল।”

আজকের ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি যেন এই ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাইছে। শাসক দল বারবার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC), গোরক্ষা আন্দোলন, ‘লভ জিহাদ’ প্রচারণা—সবকিছুতে লক্ষ্য একটাই, সংখ্যাগরিষ্ঠদের মনে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভীতি ও ক্ষোভ তৈরি করা।

এই কৌশলে সমাজে বাড়ছে বিভাজন। প্রতিবেশী প্রতিবেশীর প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে উঠছে, বন্ধুত্বের জায়গা দখল করছে সন্দেহ। সুব্রত বসুর মতে, এটি একটি সচেতন রাজনৈতিক কৌশল, যা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।

বর্গী হামলায় বাংলার মানুষ দেখেছিল, ধর্ম নয়—ক্ষমতা ও লোভই আসল চালিকাশক্তি। কিন্তু আজকের ভারতে সেই শিক্ষা ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে মানুষকে বলা হচ্ছে, ভিন্ন ধর্মের মানুষই হিন্দুদের প্রধান শত্রু। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাস্তবতা অনেক জটিল।

এখানেই তৈরি হয় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কেন আজকের ভারতকে ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে? উত্তর সহজ: যখন মানুষ প্রকৃত ইতিহাস ভুলে যায়, তখন তাদের মনে কৃত্রিম ভয় ঢুকিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সুবিধা হয়।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কারণে আজ ভারতে সহাবস্থানের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন কেবল নির্বাচনী রাজনীতির লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সমাজকে করে তোলে ভঙ্গুর। মানুষ মানুষকে শত্রু হিসেবে দেখতে শেখে, যা অর্থনীতি থেকে সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।

সুব্রত বসু তাঁর আলোচনায় সতর্ক করেছেন, এই রাজনীতি দেশকে ক্রমশ অস্থির করে তুলছে। নাগরিকদের মাঝে বিভাজন যত বাড়বে, গণতান্ত্রিক শক্তি তত দুর্বল হবে। আর তার সুযোগ নেবে কেবল ক্ষমতালোভী রাজনীতিকরা।

বাংলার ইতিহাসের বর্গী হানা আমাদের শেখায়, ধর্মের পরিচয় দিয়ে নয়, বরং ক্ষমতা ও স্বার্থের রাজনীতিতেই জন্ম নেয় আগ্রাসন। আজকের ভারত সেই শিক্ষা ভুলে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতির ধর্মভিত্তিক প্রচারণা দেশকে ক্রমেই বিভক্ত ও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সুব্রত বসুর ভাষায়, “ইতিহাস যদি সঠিকভাবে মনে রাখা যেত, তবে বোঝা যেত—শত্রু ধর্মের বাইরে নয়, শত্রু লুকিয়ে থাকে লোভ আর ক্ষমতার খেলায়।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT