
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসাইন গালিবের আদালত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডে’ জড়িত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন। পৃথক দুই মামলায় ৬৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
দুপুরে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান জামিনের আবেদন করেন, যা দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় মতিউর রহমান নিজেও বক্তব্য দিতে চান। আদালতের অনুমতিতে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, স্ত্রীও কারাগারে, মা প্যারালাইসড এবং দেখভালের কেউ নেই। তিনি দাবি করেন, জামিন পেলে প্রমাণপত্র উপস্থাপন করে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করবেন। আদালত জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং এখনই দোষী বা নির্দোষ বলা যাবে না, তাই ধৈর্য ধরতে হবে।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ জুলাই মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। ওই বছরের ২৯ আগস্ট তিনি, তার দুই স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ পাঁচজন সম্পদ বিবরণী জমা দেন। এরপর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মামলা এবং ১৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন তিনি। মামলায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ৬৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মতিউর রহমান প্রথম আলোচনায় আসেন কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনার ঘটনায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন তোলে। এই ঘটনার পর তার পরিবারের বিপুল সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। দুদকের অনুসন্ধানে মতিউর ও পরিবারের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট, তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাব পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২৪ জুন আদালত মতিউর, তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।