
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে প্রতিদিন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে সবুজের ছায়া, ফুলের রঙ আর প্রাণের সজীবতা। এই পরিবর্তনের পেছনে আছেন একজন নীরব সবুজ সৈনিক—রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানা।
প্রকৃতিকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়, বরং একে বাস্তবে রূপ দেওয়া তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে বহু বছর আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে নিজস্ব অর্থায়নে ফলদ, বনজ, ঔষধী ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ বিতরণ করে আসছেন।
তার হাতে বিতরণ হওয়া গাছের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৪৫০-এরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০টি আমগাছ, ২০০টি সুপারি গাছ, ৩০টি নাকাচুয়া গাছ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষ্ণচূড়া—যা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে রাঙিয়ে তোলার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সহকর্মীদের মতে, তাসলিমা সুলতানার এই প্রচেষ্টা শুধু গাছ লাগানোর কাজ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন—যেখানে আগামী প্রজন্ম খুঁজে পাবে ছায়া, অক্সিজেন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্পর্শ।
নোবিপ্রবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানার বিশ্বাস “একটি সবুজ ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের শুধু শীতলতা দেবে না, বরং মননশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।”
নীরবে, বিনিময়ে কিছু না চেয়ে, তিনি গড়ে তুলছেন এমন এক উত্তরাধিকার যা রয়ে যাবে বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
তার বিতরণকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের বাবুর্চি মো. হারুন অর রশীদ। তিনি জানান, মূলত সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানার দেওয়া গাছের চারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের সামনের প্রাঙ্গণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের সামনে, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে, ত্রিধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে, শান্তিনিকেতনের রাস্তার ধারে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের চারপাশে ও অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশে রোপণ করা গাছ। সবগুলো গাছই তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে ও পরম মমতায় রোপণ করেছেন।
এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন “নোবিপ্রবির মতো উপকূলীয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উপস্থিতি অতীব প্রয়োজনীয়। সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব গাছের যত্ন নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিব্যদ্যুতি সরকার বলেন, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানা এই ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক গাছ লাগিয়েছেন। এটি তাঁর একটি শখ। আমাদের বিভাগের করিডোরেও এবছর কিছু ফুলের ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছে। আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের অর্থায়নে অনেক গাছ কিনে এনে লাগিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো প্রচেষ্টা। আমাদের বৃক্ষ যত বাড়বে, সবুজ যত বাড়বে, ততই আমাদের বসবাসের পরিবেশ সুন্দর হবে। সমগ্র ক্যাম্পাসে যদি আমরা এভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তবে নোবিপ্রবি একটি আদর্শ ‘গ্রীন ক্যাম্পাসে’ রূপ নেবে। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিভৃতে এই কাজ করে যাচ্ছেন।”
নোবিপ্রবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার তাসলিমা সুলতানার অবদান শুধু কয়েক শত গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দায়বদ্ধতা দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁর নীরব ও নিরলস প্রচেষ্টা আগামী দিনে নোবিপ্রবিকে আরও সবুজ, সুন্দর ও প্রাণময় ক্যাম্পাসে রূপান্তরিত করবে—যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে পরিবেশবান্ধব শিক্ষার অনুপ্রেরণা জোগাবে।