এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সিডনির ঐতিহাসিক হারবার ব্রিজ। প্যালেস্টাইন একশন গ্রুপ আগে থেকেই ব্রিজে বিক্ষোভের ঘোষণা দিলেও নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যের পুলিশ এতে অনুমতি দেয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ নিয়ে সংগঠনটি আদালতের দ্বারস্থ হলে সুপ্রিম কোর্ট পুলিশের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে রায় দেন, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর রবিবার সকাল থেকে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (CBD)-এ জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর একটার মধ্যেই পুরো সিডনি CBD জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হারবার ব্রিজ ছাড়িয়ে সারি হিলস, রেডফার্ন, চায়নাটাউন পর্যন্ত জনতার ঢল নামে। তারা ‘ফ্রম দা রিভার টু দা সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’সহ নানা স্লোগানে সিডনির রাজপথ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে খাবার ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য প্লাস্টিক কভার বিতরণ করে। বিকেলে পুলিশের হিসেব অনুযায়ী হারবার ব্রিজে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ উঠে যায়, যা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পুলিশ পরে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠায়।
সমাবেশে আনুষ্ঠানিক কোনো মঞ্চ বা প্রধান বক্তা না থাকলেও হাজারো মানুষ নিজ নিজ ব্যানার, স্লোগান এবং প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে অংশ নেয়। প্যালেস্টাইন একশন গ্রুপের হাজারো স্বেচ্ছাসেবক হ্যান্ডমাইক হাতে সমাবেশে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে।
আয়োজকদের দাবি, এই সমাবেশে তিন লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার গণমাধ্যমগুলো দেড় থেকে দুই লাখ অংশগ্রহণকারীর কথা জানিয়েছে।
শেষ বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ধীরে ধীরে সমাবেশ শেষ হয়। সমাবেশে ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে ধিক্কার জানানো হয় এবং একইসাথে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজির ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়।
এই সমাবেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিন সংহতিতে গণসচেতনতার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।