
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগে রোববার দুপুরে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা। উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে একাত্তরের চেতনায় দাঁড়িয়ে শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা বলেন, “আমরা যোগ্য ছিলাম, তবু বাদ পড়েছি। অথচ আমাদের স্থান দখল করেছে প্রভাবশালী লোকজন।’’ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনরায় লটারি দাবি করে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আবেদন করেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তাদের বাদ দেওয়া হয়, যা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেকে বলেন, “প্রমাণসহ আমরা দেখিয়েছি, আমাদের বাদ দেওয়ার পেছনে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এমনকি এলাকার বাইরের লোকজন, যারা এখানকার ভোটারও নন, তারাও ডিলার পদে নিযুক্ত হয়েছেন। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কমিটি নিজেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে, কিন্তু তবু সেই অনিয়মকে উপেক্ষা করে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে অযোগ্যদের। বক্তারা বলেন, “এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল আগে থেকেই তালিকা ঠিক করে রেখেছিল। বাছাই কেবল ছিল একটা প্রহসন।”
বঞ্চিত আবেদনকারীরা বলেন, যে কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল দরিদ্র মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া, সেই জায়গাতেই অনিয়ম মানে গরিব মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া। তারা চান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় আবারও লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন হোক।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুল মোত্তালেব, আজিজুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, রাজু ইসলাম, আহসান, সহিদুল ইসলাম, রোকেয়া বেগম, দৌলত হোসেন, আব্দুল লতিফ, সেকেন্দার আলী লিমন, হান্নান মিয়া, আব্দুল লতিফ বাবলু প্রমুখ। একজন বক্তা বলেন, “আমরা চাই সাম্য, ন্যায়বিচার আর স্বচ্ছতা। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, শুধু ন্যায়ের পক্ষে।”
মানববন্ধন শেষে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, যদি দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা।