জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রারত ‘হানদালা’ নামের মানবিক জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে। শনিবার রাতে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই জাহাজে অভিযান চালিয়ে ২১ জন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়। ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) উদ্যোগে পরিচালিত এ মিশনে বহন করা হচ্ছিল শিশুখাদ্য, ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী ও ডায়াপার—সবকিছুই ছিল অসামরিক ও সরাসরি গাজার নির্যাতিত জনসাধারণের জন্য।
ঘটনার সময় ইউটিউব লাইভে দেখা যায়, হানদালার ডেকে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা দু’হাত তুলে আত্মসমর্পণ করছেন, আর সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনারা ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র মানবিক মিশনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক যাত্রী আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাজ করছিলেন এবং ইসরায়েলের এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, তিউনিসিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশের নাগরিক, যাদের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য, চিকিৎসক, সাংবাদিক, মানবাধিকার আইনজীবী, শ্রমিক সংগঠক ও পরিবেশকর্মীরা ছিলেন।
এফএফসির দাবি, “হানদালা কোনো অস্ত্র বা সামরিক উপকরণ বহন করেনি। এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তা মিশন। ইসরায়েলের এই হামলা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার জনগণের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা ও নিষ্ঠুরতা।” সংগঠনটি আরও জানায়, জাহাজে থাকা সকলে ইসরায়েলি হেফাজতে গেলে অনশন করবেন বলে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং দখলদার বাহিনীর কাছ থেকে কোনো খাবার নেবেন না।
যাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আমাজন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিশ্চিয়ান স্মলস, মানবাধিকার আইনজীবী হুয়াইদা আরাফ, ফরাসি পার্লামেন্ট সদস্য এমা ফোরো, সাংবাদিক তানিয়া সাফি, আল জাজিরার চিত্রগ্রাহক মোহাম্মদ এল বাক্কালী ও ওয়াদ আল মুসা প্রমুখ।
এফএফসি দাবি করেছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক আদেশও মানছে না, যেখানে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। এর আগেও ইসরায়েল ফ্লোটিলার দুটি মানবিক জাহাজ—‘কনসায়েন্স’ ও ‘ম্যাডলিন’—আক্রমণ করেছে। কনসায়েন্সকে ইউরোপীয় জলসীমায় ড্রোন দিয়ে হামলা করা হয়, এবং ম্যাডলিনে থাকা ১২ যাত্রীকে অপহরণ করে ইসরায়েলি বাহিনী, যাদের একজন ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যে গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিতরণের প্রস্তাব দিচ্ছে, তা জাতিসংঘ ও বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও মানবিক নীতির পরিপন্থী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।