প্রভোস্টবিহীন ও নানা অব্যবস্থাপনায় চলছে কাজী নজরুল ইসলাম হল - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা গাজায় রওনা, ৫০টির বেশি জাহাজে মানবিক সহায়তা জাপানের শিনকোইয়া মসজিদে প্রতি রবিবার এশার পর সাপ্তাহিক ইসলামিক আলোচনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা, ৫০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি মনোনয়ন বিতরণের শেষদিনে রাকসু কার্যালয়ে ভাঙচুর করল রাবি ছাত্রদল পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা তাসকিন–লিটনের ঝড়ে ডাচদের সহজে হারাল বাংলাদেশ, সিরিজে ১–০ নেতৃত্ব সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ কেরালায় ক্যানারা ব্যাংকে গরুর মাংস নিষিদ্ধ, কর্মীদের ‘বিফ-ফেস্ট’ প্রতিবাদ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের হুঁশিয়ারি

প্রভোস্টবিহীন ও নানা অব্যবস্থাপনায় চলছে কাজী নজরুল ইসলাম হল

নিশান খান (জাবি প্রতিনিধি)
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৫ বার দেখা হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে প্রভোস্ট না থাকায় সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে বিলম্ব এবং অভ্যন্তরীণ নানা অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন হোসেন চলতি বছরের ১৪ মে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেলেও তিনি নিয়মিত হলে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে পারিবারিক জটিলতার কারণ দেখিয়ে সময় দিতে পারছেন না বলে দায়িত্ব থেকে অবহিত নিয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থী আতিক ইসলাম বলেন, “প্রভোস্ট স্যার হলেই আসেন না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের হলে লিফট প্রায়ই নষ্ট থাকে, বাথরুম অপরিষ্কার, ক্যান্টিনের খাবার মানসম্পন্ন নয়। টেবিল ল্যাম্পের কথাও বলা হয়েছিল, এখনও পাইনি।”

আরেক শিক্ষার্থী সিফাত জাহান সৌলভ বলেন, “হলে গ্যাস সংযোগ না থাকায় ক্যান্টিনে খাবারের দাম বেশি। আমাদের ভাসানী বা কামাল উদ্দিন হলে গিয়ে খেতে হয়, যা খুবই কষ্টকর। লিফটে অনেকেই ধূমপান করে, ফেলে যায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ—যা খুবই বিপজ্জনক।”

প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নাজুক। সম্প্রতি ছাত্রের কক্ষে কয়েকজন ছাত্রের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও, তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি প্রভোস্ট অনুপস্থিতির কারণে। পাশাপাশি একজন ভুয়া শিক্ষার্থী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে হলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডেন সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বলেন, আমাদের হলে লোকবল সংকট রয়েছে, অন্যান্য হলে ৫০-৬০ জন লোকবল থাকলেও আমাদের হলে প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৫-২০ জন লোকবল রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কয়েকবার লিখিত জানিয়েছি লোকবল সংকটের বিষয়টি তারা আমাদের আশ্বাস দিলেও এখনো বিষয়টি সমাধান হয়নি। তাছাড়াও বর্তমানে প্রভোস্ট না থাকায় নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “প্রভোস্ট নিয়োগের সময় হল উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। উপাচার্য স্যারকে সমন্বয় করে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নতুন নিয়োগের ব্যাপারে তিনি ভালো বলতে পারবেন।”

রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, “হলে সমস্যা চলছে, আমরা অবগত। ভিসি স্যার যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। সামনে ফিস্টসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম রয়েছে, তাই দ্রুত প্রভোস্ট নিয়োগ জরুরি।”

হল প্রশাসনের দুর্বলতা শুধু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT