নোটিশ:
শিরোনামঃ
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই গবেষণা ও দক্ষতার সেতুবন্ধ এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

অ্যালকেমিস্ট ব্যাকটেরিয়া: ধাতু খেয়ে যে মলত্যাগ করে খাঁটি সোনা!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫০ বার দেখা হয়েছে
FB_IMG_1753503720946

সোনা তৈরি করা— মানুষের চিরন্তন এক মোহ। ফেরাউনদের আমল থেকে মধ্যযুগীয় ইউরোপ পর্যন্ত, কত বিজ্ঞানী, সাধক আর পাগল নাকি রাত জেগে চেষ্টা করেছেন ধাতু থেকে সোনা বানাতে। কারও নাম শোনা গেছে, কারও যায়নি। কেউ ছিলেন রহস্যে ঘেরা— যেমন  জাবির ইবনে হাইয়ান, নিকোলাস ফ্লামেল, যারা নাকি পরশ পাথরের মাধ্যমে সোনা বানাতে পেরেছিলেন। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনকে নিয়েও কিংবদন্তী রয়েছে।

তবে মানুষ এই সোনা বানাতে আদৌ সক্ষম হয়েছিল কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবার খোঁজ পাওয়া গেছে সোনা বানাতে সক্ষম এক আজিব ব্যাকটেরিয়ার, যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

বাস্তবতা যে কল্পনাকেও হার মানায়, আবারও তার প্রমাণ মিলল সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের হাতে।

জার্মানি আর অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক খুঁজে পেয়েছেন এমন এক আজব ব্যাকটেরিয়া, যার পেট মানে একেবারে অলীক কারখানা। নাম Cupriavidus metallidurans — মুখে উচ্চারণ কঠিন, কিন্তু কাজের বেলায় একেবারে সোজাসাপটা। ধরা যাক, আপনি এক চিমটি বিষাক্ত ধাতু দিলেন ওকে, ব্যাকটেরিয়াটি গিলে ফেলল সেই ধাতু। তারপর একটু সময় নিল, একটু হজম করল— এবং হায় হায়! পেট সাফ করে দিল যে জিনিস, তা খাঁটি সোনা! একেবারে ২৪ ক্যারেট!

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডেলেইড বিশ্ববিদ্যালয় আর জার্মানির মার্টিন লুথার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ ঘটনাকে প্রথমে নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারেননি। খনির বিষাক্ত পরিবেশে, যেখানে অন্য কোনো জীব টিকতেই পারে না, সেখানে দিব্যি জীবনযাপন করছে এই ব্যাকটেরিয়া। আর শুধু বেঁচে থাকছে তা-ই নয়, উপহার দিচ্ছে সোনার খনি— নিজেই! তারা বিষাক্ত ধাতু খেয়ে মলত্যাগ করছে ২৪ ক্যারেটের সোনা। সোনার ডিম পাড়া হাঁস কল্পনাতে থাকলেও সোনার মলত্যাগ করা ব্যাক্টেরিয়া এক দারুণ বাস্তব!

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা দিয়ে এখনই বিশাল আকারে সোনা তৈরি করা যাবে না।

কিন্তু তাতে কী? আজকের অদ্ভুত কাণ্ডই তো কালকের প্রযুক্তি হয়ে ওঠে। একদিন হয়তো খনি আর বিস্ফোরণের যুগ শেষ হবে, আর ব্যাকটেরিয়া দিয়ে চলবে ধাতু আহরণ। কে জানে, তখনকার স্কুলবইয়ে লেখা থাকবে: “সোনা বলতে বোঝায় Cupriavidus metallidurans-এর মল।”

বস্তুত, এই ব্যাকটেরিয়া যেন আধুনিক যুগের এক মাটির ফ্লামেল— কেমিস্ট নয়, অ্যালকেমিস্ট নয়, সে এক ব্যাকটেমিস্ট!

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT