ঢাকার আকাশে দুঃখের মেঘ জমেছিল ২১ জুলাই ২০২৫। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ চলাকালীন একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ কেড়ে নেয় অন্তত ৩১টি শিশুর, আর আহত করে বহু মানুষকে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর রাজধানীর হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজিত করে এক বিশেষ সমাবেশ, যেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয় নিহতদের প্রতি।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসাথে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে সবাইকে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায়। হার্ডকোর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “আমরা মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল শোকাহত পরিবারের পাশে আছি। এই অপূরণীয় ক্ষতিকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
স্মরণসভায় শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। অনেকে বলছিল, “ওরা আমাদের মতোই ছিল—খেলত, পড়ত, স্বপ্ন দেখত। আজ তারা নেই, এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।”
২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি F‑7 BGI যুদ্ধবিমান রুটিন প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে উড্ডয়ন করে। পরে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে ধাক্কা খায়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় পুরো ভবনে। পাইলট প্রাণ হারান, নিহত হন অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। আহতরা এখনো ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
ঘটনার ভয়াবহতায় দেশজুড়ে শোক ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ২২ জুলাই ঘোষণা করা হয় জাতীয় শোক দিবস। বিভিন্ন স্কুলে ক্লাস স্থগিত করে আয়োজন করা হয় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে, আর সরকারের পক্ষ থেকে বার্ন ইউনিট ও চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।