ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখিতে চট্টগ্রামের চকবাজারে উত্তপ্ত, আহত ফাহিম চমেকে ভর্তি - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা গাজায় রওনা, ৫০টির বেশি জাহাজে মানবিক সহায়তা জাপানের শিনকোইয়া মসজিদে প্রতি রবিবার এশার পর সাপ্তাহিক ইসলামিক আলোচনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা, ৫০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি মনোনয়ন বিতরণের শেষদিনে রাকসু কার্যালয়ে ভাঙচুর করল রাবি ছাত্রদল পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা তাসকিন–লিটনের ঝড়ে ডাচদের সহজে হারাল বাংলাদেশ, সিরিজে ১–০ নেতৃত্ব সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ কেরালায় ক্যানারা ব্যাংকে গরুর মাংস নিষিদ্ধ, কর্মীদের ‘বিফ-ফেস্ট’ প্রতিবাদ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের হুঁশিয়ারি

ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখিতে চট্টগ্রামের চকবাজারে উত্তপ্ত, আহত ফাহিম চমেকে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় সোমবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে হঠাৎ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কর্মী মারধরের শিকার হলে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাপা উত্তেজনা। একপক্ষ অবস্থান নেয় গুলজার মোড়ে, আরেকপক্ষ কাঁচাবাজার মোড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে মধ্যরাত পেরিয়ে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শিবির কর্মী ফাহিম নামের এক তরুণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফাহিমকে মারধর করে তাকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে অপবাদ দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ফাহিমের মাথায় দু’টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম। তার দাবি, ফাহিম চট্টগ্রাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ওয়াহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের লোকজন ঘটনার পর চকবাজার মোড়ে অস্ত্রসহ মহড়া দেয়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নিরপরাধ কর্মীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার করা হয়েছে এবং পুলিশের সহায়তায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

অন্যদিকে চকবাজার থানা ছাত্রদলের নেতা আব্দুল কাদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, আসল ঘটনা হলো—নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক সদস্যকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপরই শিবিরের কয়েকজন নেতা কলেজ এলাকা থেকে এসে ছাত্রদল কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং তাদের থানায় অবরুদ্ধ করে রাখে। আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, পুলিশ পুরো ঘটনায় শিবিরের পক্ষ নিচ্ছে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে দিচ্ছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল কবির সংবাদমাধ্যমকে জানান, “একজন ছাত্রকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তবে এই প্রথম নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। গত ৩১ মে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে ভর্তির হেল্প ডেস্ক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়, তাতে চারজন শিবির কর্মী ও তিনজন ছাত্রদল কর্মী আহত হন। একইভাবে, ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কলেজেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, সেখানে আহত হন ছয়জন।

চকবাজার এলাকার লোকজন জানায়, রাতভর টানটান উত্তেজনায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছিল। যদিও পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এমন ঘটনাগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির আধিপত্য এবং অস্থির পরিবেশকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT