রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যাতে একজনের মৃত্যু ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সিও এলপিজি গ্যাস পাম্পে চলমান মেরামত কাজের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে এ বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গাড়ি ও ঘরবাড়িতে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছিল এবং গ্যাস সংরক্ষণের ট্যাংকে লিকেজ ধরা পড়ে। সেই ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা উচ্চচাপের গ্যাস মেরামতের সময় হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো ফিলিং স্টেশন উড়ে যায়, পাশের অন্তত ২০টি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস, দুটি বাসসহ ১৫-২০টি যানবাহন পুড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান, ঘরবাড়ি, এমনকি গাছপালাও আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে ধোঁয়া উড়তে থাকে দীর্ঘ সময়।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম জানান, স্টেশনটি মেরামতের জন্য বন্ধ থাকলেও গ্যাস ট্যাংকের অতিরিক্ত চাপ বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণে ফিলিং স্টেশনে থাকা কয়েকটি গাড়ি, আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” সেখানে ভর্তি হওয়া অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “সিও বাজারের এলপিজি গ্যাস সেন্টারে মেরামতের সময়ই এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্যাংক ও যন্ত্রপাতি ছিটকে পড়ে আশপাশে থাকা গাড়ি ও মানুষজনের ওপর।” রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে চলাচলকারী দুটি বাসও আগুন ও ধ্বংসের কবলে পড়ে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, বিস্ফোরণে আহত একজন ৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা পুরুষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশ কেঁপে ওঠে এবং মানুষের চিৎকারে চারপাশে আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। কেউ কেউ রাস্তায় ছুটে পড়ে, আবার অনেকে নিজেদের বাড়ির জানালা ও দরজা বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয় নেন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং সাধারণ জনগণকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।