বঙ্গমাতা ও মৈত্রী হলের ছাত্রীদের ক্লাসে যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ইতোমধ্যে দুটি বাস চালু রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বাস দুটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ক্লাসে যাতায়াতের একমাত্র এই মাধ্যম অকার্যকর হয়ে পড়ায় ছাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
প্রায়শই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাত্রীরা পায়ে হেঁটে অথবা অতিরিক্ত রিকশাভাড়া দিয়ে ক্লাসে পৌঁছাতে বাধ্য হন। এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের সকল চেষ্টা, যেমন: অভিযোগপত্র কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ছিল নিষ্ফল।
এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেয় ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংসদ’। সংগঠনটির আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রশাসন অর্থসংকটের কথা জানিয়ে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ঢাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (এলামনাই) সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
পরবর্তীতে ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংসদ’ যোগাযোগ করে ‘মেহতাজ ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে। জানা যায়, এই ফাউন্ডেশনটি পরিচালনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পাঁচজন শিক্ষার্থী, যারা সম্পর্কে ভাইবোন এবং ফাউন্ডেশনটির নামকরণ করা হয়েছে তাদের মা মেহতাজের নামে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন বঙ্গমাতা ও মৈত্রী হলের ছাত্রী।
ছাত্রীদের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে ‘মেহতাজ ফাউন্ডেশন’ একটি কোস্টার বাস উপহার দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট হলগুলোর ছাত্রীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে—বাস সংকট নিরসনের মাধ্যমে যাতায়াতের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।