গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় ওলামা সংগঠন ও জনতার প্রতিবাদে বিপাকে পড়েছেন জনপ্রিয় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন। সিকদার মার্কেটে “নান্না বিরিয়ানি হাউস” উদ্বোধনের জন্য ঢাকার পথ ধরেছিলেন মামুন, কিন্তু উপজেলার ভেতরেই ঘুরে ফিরে অনুষ্ঠান ছাড়াই চলে যেতে বাধ্য হন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই। বিরিয়ানি হাউস কর্তৃপক্ষ মামুনের আগমন উপলক্ষে লিফলেট ছাপিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালায়। তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহও তৈরি হয়। কিন্তু সেই আগ্রহের পাশাপাশি ক্ষোভও জমতে থাকে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সমাজ সচেতনদের মাঝে।
প্রিন্স মামুনকে ‘অসামাজিক ও চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় কাশিয়ানী উপজেলা ওলামা ঐক্য পরিষদ ও খেলাফত মজলিস। তাদের অভিযোগ, টিকটকের মতো মাধ্যমে মামুন যুবসমাজের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছেন, যার প্রভাব মারাত্মকভাবে সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। তাই কাশিয়ানীতে তার প্রবেশ ঠেকাতে তারা থানায় লিখিতভাবে আবেদন করেন।
ওলামাদের আবেদনের পর কাশিয়ানী থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে বিরিয়ানি হাউস কর্তৃপক্ষকে অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশনা দেয়। পুলিশের এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে হাউস কর্তৃপক্ষ প্রিন্স মামুনকে অনুষ্ঠান স্থগিতের অনুরোধ জানায়। ফলে মামুন দুপুরে ঢাকার দিক থেকে কাশিয়ানীতে পৌঁছালেও বিরিয়ানি হাউস উদ্বোধন না করেই ফিরে যান।
যদিও বিরিয়ানি হাউসের মালিকের ভাই মনির হোসেন জানান, মামুন নিজস্ব সমস্যার কারণেই অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন, এবং এর সঙ্গে কোনো চাপের সম্পর্ক নেই। তবে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ওলামা সংগঠনের বক্তব্যে পরিষ্কার যে তাকে স্বাগত জানানো হয়নি বরং বাধা দেওয়া হয়েছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন নিশ্চিত করেন, জনতার আবেদনের পর পরিস্থিতি যাতে অশান্ত না হয় সেজন্য হাউস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং তারা নিজ উদ্যোগেই প্রোগ্রাম বাতিল করে মামুনকে অবহিত করে।
ওলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল করীম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “মামুন চরিত্রহীন, টিকটকের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের নষ্ট করছে। তার আগমন ঠেকিয়ে আমরা যুব সমাজকে রক্ষা করেছি।”
এই ঘটনার মাধ্যমে কাশিয়ানীর ধর্মপ্রাণ জনতা ও আলেম সমাজ আবারও দেখালেন, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা রক্ষায় তারা যে কোনো অবস্থানে দৃঢ়। প্রিন্স মামুনের মতো বিতর্কিত অনলাইন তারকার আগমন ঠেকিয়ে তারা একপ্রকার নীরব প্রতিবাদই গড়ে তুললেন তরুণ প্রজন্মের সুস্থ সংস্কৃতির পক্ষে।