আওয়ামী জুলুমিয়াত - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
“ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার: দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার এক নতুন দিগন্ত” -ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন, এমবিই কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি নানিয়ারচর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী উপহার হাউজ অব লর্ডসে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, ইতিহাস সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় জোর দাবি গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ; পাসের হার ৩০ শতাংশ কুবিতে ৭০টি আসন ফাঁকা, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত ময়মনসিংহ মেডিকেলের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২ খুলনায় ‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ নিহত পুলিশ সদস্য কুড়িগ্রামে র‍্যাব-১৩ এর অভিযান; প্রায় ২ মণ গাঁজাসহ গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী অনুমতি জটিলতায় প্রীতি ম্যাচ স্থগিত, ক্ষোভ আবাসিক শিক্ষার্থীদের

আওয়ামী জুলুমিয়াত

প্রফেসর মোক্তার আহমেদ
  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫
  • ১৬২ বার দেখা হয়েছে
প্রফেসর মোক্তার আহমেদ
বাইতুল্লাহ’র তৃতীয় এক্সটেনশনে আমার পাশেই ইতিকাফে বসেছেন একজন তরুন আলেম। ইফতারির ঠিক পরপর কাঁদো কাঁদো অবস্থায় এসে একটু রুকইয়া করে দিতে বলে কাঁদতে থাকলেন। সমগ্র শরীর ঘামাচ্ছে তার। রুকইয়া করে দিচ্ছি আর মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করছি, কি সমস্যা তার!
বললো, সমগ্র শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে,
আর বুক, মাথা, পেট ইত্যাদি দেখিয়ে বলছে যেনো
যেসব স্থানে রুকইয়া করে দেই।
কিভাবে কি হলো তা জানতে গিয়ে যা শুনলাম
তা আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।
.
আল্লামা বাবুনগরীর (রহ.) সাথে মামলায়
২০২১ সালে এই তরুন আলেমকে ধরে নিয়ে যায়
বাহিনীর লোকজন।
বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেয়।
তাকে একমাস রিমান্ডে রাখে।
একাধারে ৬দিন পেছন থেকে হাত বেধে
দাঁড় করিয়ে রাখে।
বসতেও দেয় নি।
ফলে শরীর ফাটা শুরু করে।
পাশাপশি লজ্জাস্থানসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে
বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন করতে থাকে।
হুমকি দেয়, জীবন শেষ করে দিবে
যদি এজেন্সির কথামত স্বীকারোক্তি না দেয়।
তিনি স্বীকারোক্তি দেননি।
আঘাতের ফলে আহত স্থানগুলো থেকে
পুঁজ ঝরতে শুরু করে।
.
আমি তার হাত, পা, পায়ের গোড়ালি,
হাত-পায়ের আঙুল,
গলায় নিচ, বুকের সামনের অংশের দিকে তাকালাম,
দেখলাম, এখনো সব প্রায় ফেটে ফেটে আছে,
হাত পায়ের নখগুলো কিছুটা সাদা,
আর চারিপাশের চামড়াগুলো ভয়াবহ কালো, ফাটা।
পায়ের গোড়ালিসহ টাকনুর নিচে তাকানো যাচ্ছেনা,
বিভৎস, ভয়ংকর, ভীতিকর।
ভয় পেতে হয়।
ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
এগুলো এমন হলো কিভাবে?
বললো, নির্যাতনের প্রভাবে,
আর এর প্রভাবেই সারা শরীরে ক্যান্সার এখন থার্ড স্টেজ।
.
আমি একটু অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম,
আমার বেদনাহত চেহারা তার থেকে একটু লুকাতে।
আমি চোখ বন্ধ করলেই
এই তরুন আলেমের বেদনাক্লিষ্ট চেহারা
আমাকে অস্থির করে তোলে।
আমি জানি,
তার নিপীড়িত শরীর আর বেথাতুর চেহারা
দীর্ঘদিন আমাকে স্বপ্নেও তাড়া করে বেড়াবে।
.
এই ভয়াবহ অতীত দেশের মানুষের জীবনে
আর ফিরে না আসুক…
বাইতুল্লায় হাজারো বাংলাদেশীর সাথে
কদরের দশকে আমিও নিরন্তর সেই দুয়া করছি।
  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর সর্বশেষ নিউজ পড়তে ক্লিক করুন: সর্বশেষ
  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেজটি ফলো করুন: dailysabasbd

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT