ঠাকুরগাঁওয়ে সাপের কামড়ে কিশোরীর মৃত্যু, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সংকট - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
রাবেয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বর্বরোচিত হামলা; রক্তাক্ত দৈনিক রাজবাড়ী কন্ঠের অফিস সহায়ক দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে নেই ভোগান্তি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জমকালো আয়োজনে বুটেক্সে শুরু হলো অ্যালামনাই সুপার কাপ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আইসিএমএবি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হসপিটালে ছাত্র, শিক্ষক অবরুদ্ধ পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ঝলসে গেলেন মনিরা ড. রশিদুন্ নবীর হাতে উঠছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’

ঠাকুরগাঁওয়ে সাপের কামড়ে কিশোরীর মৃত্যু, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৪ বার দেখা হয়েছে

ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহে অন্তত পাঁচজন সাপে কেটে মারা গেছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে সাপের বিষনাশক অ্যান্টিভেনম না থাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কদমতলা গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল ইসলাম (১২) শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সাপে কেটে মারা যায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—কোনোটিতেই অ্যান্টিভেনম না থাকায় পথিমধ্যেই শিশুটি মারা যায়।

পরিবার জানায়, বাড়ির পাশের দোকানের ছাউনি থেকে বের হয়ে আসা এক বিষধর সাপ কামড় দেয় সাকিবুলকে। প্রথমে বিষয়টি টের না পেলেও কিছুক্ষণ পর ব্যথা অনুভব করলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সাপে কাটা নিশ্চিত করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে জেলা ও অন্য উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হলেও কোথাও অ্যান্টিভেনম মজুদ ছিল না। শেষমেষ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে ১০ মাইল এলাকায় শিশুটি মারা যায়।

সাকিবুলের বাবা ইসরাইল উদ্দিন বলেন, “চারটা হাসপাতালে ছুটেছি, কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন পাইনি। আমার কোলে আমার ছেলে মারা গেল। যেন আর কোনো বাবাকে এই কষ্ট সহ্য করতে না হয়।”

এ ঘটনার পাশাপাশি পীরগঞ্জের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তারেক, রাণীশংকৈলের কলেজছাত্র মোকসেদ আলী, হরিপুরের গৃহবধূ সম্পা রাণীসহ মোট পাঁচজন সাপে কেটে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্পা রাণীর স্বামী জিতেন জানান, “তিনটি হাসপাতালে ঘোরার পরও ভ্যাকসিন পাইনি। শেষমেষ ওঝার কাছে নিয়ে গেলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারিনি।”

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আজমুল হক বলেন, বর্ষায় ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন সাপে কেটে মারা যায়। প্রতি বছর হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনমের চাহিদা পাঠানো হলেও সরবরাহ বিলম্বে আসে, তখন বর্ষা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান অ্যান্টিভেনমের সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “চাহিদাপত্র পাঠানোর পরও ঢাকা থেকে সরবরাহ মেলেনি। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে অ্যান্টিভেনমের অভাব রয়েছে বলে জেনেছি, তবুও আমরা কিছু সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর বর্ষার শুরু হওয়ার আগেই অ্যান্টিভেনম ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মজুদ রাখা জরুরি। নইলে সাপের কামড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু থামানো সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT