দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ: শেখ হাসিনাকে এখন প্রত্যর্পণ করবে না ভারত - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা জামায়াতের মনোনয়নে কে এই হিন্দু প্রার্থী ভারত ছাড়তে তড়িঘড়ি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল পশ্চিমবঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুরের প্রহরায় বেঁচে গেল পরিত্যক্ত নবজাতক

দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ: শেখ হাসিনাকে এখন প্রত্যর্পণ করবে না ভারত

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

দ্য ডিপ্লোম্যাটের দক্ষিণ এশিয়া সম্পাদকীয় রেফারেন্সে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল পাঠিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। আইসিটির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায় এই কূটনৈতিক চাপ বাড়ালো ঢাকা।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দিল্লির ওপর এটি ‘বাধ্যতামূলক দায়িত্ব’। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুজনকে আশ্রয় দিলে তা হবে ‘অমিত্রসুলভ আচরণ’ বলেও সতর্ক করেছে ঢাকা।

১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দিয়ে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর দায় তাদের ওপর আনা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। গত এক বছরে একাধিকবার প্রত্যর্পণ চাওয়া হলেও ভারত সাড়া দেয়নি। প্রথম নোট ভারবাল শুধু গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল; দ্বিতীয়টির কোনো জবাব আসেনি। রায় ঘোষণার পরও দিল্লি বলেছে শুধু—রায়টি লক্ষ্য করা হয়েছে।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণে ভারতের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লি এখন বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে না। গবেষক স্মৃতি এস. পট্টনায়কের মতে, ঢাকা বর্তমানে ‘অস্থায়ী ও সীমিত ম্যান্ডেট’ নিয়ে চলছে, তাই নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।

ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিরোধিতা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী। মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোগিতা, ১৯৭৫–এর পর আশ্রয় দেওয়া এবং ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে ঘনিষ্ঠ ভূমিকা—এসব কারণে তাকে দিল্লি ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ হিসেবে দেখে। ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে ফেরত পাঠানো দেশটির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

যদিও ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, ভারত চাইলে ‘রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ’ ধারা প্রয়োগ করে প্রত্যর্পণ এড়াতে পারে। আরও প্রশ্ন উঠতে পারে—বিচার প্রক্রিয়া কতটা ন্যায্য ছিল বা ট্রাইব্যুনালের বৈধতা কী। আর দিল্লি অনুমতি দিলেও ভারতের আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে, যেখানে শেখ হাসিনা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন।

দক্ষিণ ব্লকের হিসাব বলছে, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ভারতের জন্য অত্যন্ত বড়। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দিল্লি অতিরিক্ত সতর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ভারতের কৌশল হবে “ধীরে, নীরবে”, সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায় ভারতবিরোধী বক্তব্য জোরালো হলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT