নোটিশ:

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ সমাবেশ

ওয়ালিদ মুহাম্মাদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৩৮ বার দেখা হয়েছে
Nazrul University – Red Card

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অফিস প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছেন ‘লাল কার্ড’ সমাবেশ। শিক্ষার্থীরা বলেন, এই কমিশনের উপস্থিতি দেশের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ এবং নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ছয়টি মৌলিক কারণ তুলে ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের আপত্তির পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ:
জাতিসংঘ অফিস প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য সংবেদনশীল অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২. ফিলিস্তিনে পক্ষপাত ও নীরবতা:
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বরং তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।

৩. বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ:
শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, জাতিসংঘ অফিস থেকে এলজিবিটিকিউ বিষয়ক এজেন্ডা, পতিতাবৃত্তির স্বীকৃতি এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

৪. দেশের ভাবমর্যাদার ক্ষতি:
এ ধরনের অফিস সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত বা অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে স্থাপিত হয়। বাংলাদেশে এমন অফিস চালু হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে।

৫. পরোক্ষ মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা:
জাতিসংঘ অফিসের আড়ালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কূটনৈতিক চুক্তি ও নিরাপত্তা হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

৬. বিচারব্যবস্থায় প্রভাব:
জাতিসংঘের চাপের ফলে দেশে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খুনি ও ধর্ষকের মতো অপরাধীদের রক্ষা করবে এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ রায়হান বলেন,

“এটা সেই জাতিসংঘ, যারা মুসলিম বিশ্বে সমকামীতা ও পতিতাবৃত্তিকে মানবাধিকার বানিয়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। যারা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকান কিংবা উইঘুর নিধনের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থেকেছে, তারা আজ বাংলাদেশে এসে মানবাধিকারের কথা বলছে। এটা জাতিগতভাবে চরম অপমান।”

তিনি আরও বলেন,

“আমরা মানবাধিকার চাই, কিন্তু সেটা যেন আমাদের ধর্ম, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”

সমাবেশে বক্তারা দেশের ছাত্র, শিক্ষক, নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ‘গোপন আগ্রাসন’ প্রতিহত করার আহ্বান জানান। প্রতিবাদ শেষে প্রতীকীভাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি দেশের বহু নাগরিকের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় কোনো বহিরাগত চাপ বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT