শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। এতে মোট ৩২ বস্তা নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। প্রতিবারের মতো এবারও দানবাক্সের সঙ্গে পাওয়া গেছে চিরকুট, যার মধ্যে অন্যতম চিঠিতে লেখা ছিল, “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
দূরদর্শী প্রশাসনিক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। গণনার কাজ চলতে থাকে মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায়। এতে অংশ নেন প্রায় চার শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ছিলেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
দানে থাকা চিরকুটগুলোতে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। কেউ অফিসের শত্রুর কারণে প্রমোশন না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, কেউ সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন, কেউ ভালোবাসার মানুষকে ‘হালাল’ হিসেবে পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেছেন। একজন চিঠিতে ফ্ল্যাট চাওয়ার সঙ্গে ঋণমুক্তির প্রার্থনা করেছেন। আবার একজন তার স্বামীর জন্য ভালো আচরণ ও সৎ পথে ফিরে আসার দোয়া করেছেন। চিরকুটে একজন লিখেছেন, তার অফিসে শত্রুদের কারণে প্রমোশন হচ্ছে না। তিনি শত্রুদের নাম উল্লেখ করে তারা যেন অফিস থেকে যেন বের হয়ে যায় সে কামনা করলেন।
একজন ফ্ল্যাট চেয়ে ঋণ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেছেন। আরেকজন তার স্বামী যেন ভালো আচরণ করেন ও সৎ পথে ফিরে আসেন সে আবেদন জানিয়েছেন। দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ উল্লেখ করে যেকোনও একটি রাজনৈতিক দলকে দেশের জন্য কবুল করার জন্য আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি। আরেকজন এসএসসিতে ভালো ফলের প্রার্থনা করেছেন।
প্রথা অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর খোলার সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি দানবাক্স যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল, ৪ মাস ১২ দিন পর খোলার সময় রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিল।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী। বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাত পর্যন্ত চলবে টাকা গণনার কাজ। সবশেষ তথ্য পাওয়ার পর জানা যাবে, এবারের দানবাক্স খোলায় কত টাকা পড়েছে।