নোটিশ:
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো, বৃদ্ধির অঙ্ক এখনো নির্ধারিত নয় যবিপ্রবির গবেষকের ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তির পেটেন্ট অনুমোদন: মাঠপর্যায়ের ফল যাচাইয়ের তাগিদ ঢাকায় দুই দিনের সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনী শুরু বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা দেখছে টয়োটা জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল: প্রতিশ্রুতির সঙ্গে চাই বাস্তবায়নের স্বচ্ছ হিসাব ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

কেনিয়ার ইয়াতিমখানায় এক টুকরো রুটির জন্যও কৃতজ্ঞতা, আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ২২৪ বার দেখা হয়েছে
kenya orphanage

বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ একটি ফেসবুক পোস্টে নিজের জীবনের এক গভীর শিক্ষা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, কেনিয়ার মুম্বাসায় একটি ইয়াতিমখানা মাদরাসায় যাওয়ার সময় তিনি মাত্র ৬৪ জন ছাত্রের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে শিশুদের মাসিক খাবারের পুরো খরচ বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এই তথ্য জানার পরই তাঁর বুক ধক করে উঠেছিল।

তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, ইয়াতিমখানার দুপুরের খাবার সীমিত, সাধারণত দুই-তিন স্লাইস পাউরুটি আর পানি। রাতে কখনো ভুট্টার আটার ঘাটি, কখনো শুকনো পাউরুটি বা চিনির পানি বা রঙ চা। অনেক দিনই এমন খাবারও পুরোপুরি পাওয়া যায় না। তবুও, শিশুরা যা আছে তাই খেয়ে আল্লাহর শোকর আদায় করে।

রাতের এশার সালাত আদায় করতে তিনি মুম্বাসার আরেকটি প্রতিষ্ঠান “মারকাজে ইমাম শাফেয়ী রহ.”-এ গিয়েছিলেন। সেখানে রাতের খাবারের দৃশ্য দেখে আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর চোখ ভিজে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের সবচেয়ে অভাবী মানুষের খাবারও এই কিশোরদের কাছে যেন বিলাসিতার মতো। উস্তাদের অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও করা নিষেধ থাকলেও, ছাত্ররা তিলাওয়াত শুনতে দাড়িয়ে থাকে।

তিনি দেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। হাজারো স্মার্টফোন, দামী জামাকাপড় ও বিলাসী খাবারের মাঝে অনেক সময় আমরা খাবার অপচয় করি, অথচ মুম্বাসার কিশোর হাফেজরা শুকনো এক টুকরো রুটির জন্যও আনন্দে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়। আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমাদের শিশুদের জন্য আমরা চকোলেট, পিৎজা, বিরিয়ানি, দামী স্কুলের ব্যবস্থা করি, কিন্তু দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে উদাসীন থাকি। সেখানে শিশুদের চোখে দেখা যায় দুনিয়ার নির্লিপ্ততা আর মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি।

মুম্বাসা থেকে তিনি একটি বড় শিক্ষা নিয়েছেন: আরাম নয়, কৃতজ্ঞতাই প্রকৃত সুখ। দেখানো নয়, সংযম আর দানই আসল মহত্ত্ব। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমাদের জীবনে কতবার আমরা শুধুমাত্র পানি আর পাউরুটি খেয়ে দিন কাটাই?

এই অভিজ্ঞতা আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর চোখে এক টুকরো রুটির মূল্য এবং সংযম ও কৃতজ্ঞতার বাস্তব শিক্ষা ফুটিয়ে তোলে, যা আমাদের সমাজের মানসিকতা ও জীবনধারার প্রতিফলন ঘটায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT