আশুরা- ফেরাউনের দম্ভ, মুসা (আ.)-এর সংগ্রাম আর ইতিহাসের শিক্ষা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সড়ক সংস্কারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ ভোলা বরিশাল সেতুর দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত

আশুরা- ফেরাউনের দম্ভ, মুসা (আ.)-এর সংগ্রাম আর ইতিহাসের শিক্ষা

সংকলিত
  • আপডেট সময় রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২৩৫ বার দেখা হয়েছে

মিশরের শাসকদের এক সময় বলা হতো ‘ফেরাউন’। এদের কেউ কেউ এতটাই অহংকারী ছিল যে, নিজেকেই খোদা বলে দাবি করতো। এমনই এক দাম্ভিক ফেরাউনের যুগে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী হজরত মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দিয়ে পাঠিয়েছিলেন সত্যের দাওয়াত নিয়ে। কোরআনের বহু জায়গায় এই নবী-ফেরাউনের ঘটনাপ্রবাহ বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউনের আসল নাম নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেন ‘রামেসিস’, কেউ বা বলেন ‘মারনেপতাহ’, আবার কেউ দাবি করেন ‘ওয়ালিদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান’। ধারণা করা হয়, সে প্রায় চার শত বছর হায়াত পেয়েছিল।

ফেরাউনকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, বনি ইসরাইলের এক সন্তান একদিন তার সিংহাসন ধ্বংস করবে। এই ভয়ে ফেরাউন নবজাতক বনি ইসরাইলি ছেলে শিশুদের হত্যা করাতো। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “যখন তোমাদের ফেরাউন গোষ্ঠী থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের ছেলে সন্তানদের হত্যা করতো আর মেয়েদের জীবিত রাখতো এবং তোমাদেরকে ভয়াবহ যন্ত্রণা দিত। এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল কঠিন পরীক্ষা।” (সূরা বাকারা: ৪৯)

এমন এক সময় জন্ম নিলেন হজরত মুসা (আ.)। ফেরাউনের ভয়ানক অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে মুসার মা আল্লাহর নির্দেশে তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেন। ফেরাউনের স্ত্রী সেই শিশুকে প্রাসাদে নিয়ে লালনপালন করেন। বড় হয়ে মুসা (আ.) এক মিশরীয়কে ভুলক্রমে হত্যা করে মাদায়েনে চলে যান। দশ বছর পর স্ত্রী-সন্তানসহ ফেরার পথে পবিত্র তুয়া উপত্যকায় আল্লাহ তাআলা তাকে নবুয়ত দান করেন এবং ফেরাউনের কাছে দীনের দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন।

মুসা (আ.) ফেরাউনের দরবারে গিয়ে একত্ববাদের দাওয়াত দেন। কিন্তু ফেরাউন তাকে অবজ্ঞা করে এবং নিজেকে ‘তোমাদের সেরা রব’ দাবি করে। সে প্রকাশ্যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে যায়। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের অহংকারের পরিণতি ঘটান।

মুসা (আ.) বনি ইসরাইলদের নিয়ে মিশর ত্যাগ করলে ফেরাউন সেনাবাহিনী নিয়ে তাড়া দেয়। আল্লাহ  সাগর দ্বিখণ্ডিত করে ইসরাইলিদের পার করে দেন। ফেরাউন সেই পথ ধরতেই সাগরের পানি আবার একত্রিত হয়ে যায় এবং ফেরাউন তার সৈন্য-সহ সাগরে ডুবে মারা যায়।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, “আজ আমরা তোমার দেহকে রক্ষা করব, যেন তুমি পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো। নিশ্চয় বহু মানুষ আমার নিদর্শন সম্পর্কে উদাসীন।” (সূরা ইউনুস: ৮৮-৯২)

এই ঘটনা ঘটেছিল ১০ মহররম পবিত্র আশুরার দিন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মদিনায় এসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে কারণ জানতে চান। তারা জানায়, এই দিনে মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিল। তাই মুসা (আ.) এ দিন রোজা রাখতেন। রাসুল (সা.) তখন বলেন, “আমি মুসার চেয়েও তার প্রতি অধিক হকদার।” তারপর তিনি নিজে রোজা রাখেন ও উম্মতকে এ দিন রোজা রাখতে উৎসাহ দেন। (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)

এই ইতিহাসে স্পষ্ট শিক্ষা — কোনো দম্ভ, কোনো শাসকের অহংকার আল্লাহর সামনে টেকে না। সত্যের শক্তি আর আল্লাহর সাহায্যই শেষ কথা। ইতিহাসে ফেরাউনের পরিণতি সবার জন্য বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT