জরুরি অবস্থা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
আওয়ামী দোসরদের নতুন জোট এনডিএফ–এর আত্মপ্রকাশ তুরস্কের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কুবির সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর কওমি ডিগ্রিধারীদের জন্য কাজী হওয়ার দরজা খুলল; আরও সরকারি খাত উন্মুক্তের দাবি সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা

জরুরি অবস্থা ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৯৪ বার দেখা হয়েছে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫

জরুরি অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য সংবিধানে সংশোধনী আনার বিষয়ে একমত হয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এখন থেকে জরুরি অবস্থা জারির আগে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এসেছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান সংলাপের ১২তম দিনে।

কমিশনের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতায় হুমকি, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নব্বই দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন। তবে তা জারি করার আগে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সংবিধানে এই সময়সীমা ১২০ দিন।

এছাড়া ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দের পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দগুলো যুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায়ও জোর দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় বলা হয়, সংবিধানের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী, জীবনের অধিকার, নিষ্ঠুর বা অমানবিক আচরণ ও শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার কোনো অবস্থায় খর্ব করা যাবে না।

তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কিছু বিকল্প মতামতও তুলে ধরে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক প্রস্তাব করেন, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। খেলাফত মজলিশের আহমদ আবদুল কাদের মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রস্তাব দেন, মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা বা নেত্রীকে উপস্থিত রাখা হোক। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদও এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী আকন প্রশ্ন তোলেন—বিরোধী দলীয় নেতা অনুপস্থিত থাকলে কে থাকবেন? তখন জানানো হয়, বিরোধী দলীয় উপনেতাও মন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন, তিনিও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদনের মাধ্যমেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে এবং ওই বৈঠকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বা তার অনুপস্থিতিতে উপনেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT