কুমিল্লায় প্রথমবার সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপন - পায়ের আঙুলে ফিরলো হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা তাসকিন–লিটনের ঝড়ে ডাচদের সহজে হারাল বাংলাদেশ, সিরিজে ১–০ নেতৃত্ব সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ কেরালায় ক্যানারা ব্যাংকে গরুর মাংস নিষিদ্ধ, কর্মীদের ‘বিফ-ফেস্ট’ প্রতিবাদ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের হুঁশিয়ারি ভিপি নূরের ওপর হামলা সেনা নেতৃত্বে: পিনাকী যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার পথ বন্ধ নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে ইবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সতে ৩২ বস্তা টাকা ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা সহ নানান চিরকুট ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চার দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

কুমিল্লায় প্রথমবার সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপন – পায়ের আঙুলে ফিরলো হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য দিগন্তের সূচনা করল কুমিল্লার একটি জেলা হাসপাতাল। প্রবাসে দুর্ঘটনায় আঙুল হারানো এক বাংলাদেশির হাতে সফলভাবে পায়ের আঙুল প্রতিস্থাপন করে চিকিৎসকরা দেখিয়ে দিলেন—জটিল অস্ত্রোপচার আর শুধু রাজধানী বা বিদেশের আশ্রয় নয়, এখন জেলা শহরেও তা সম্ভব। কুমিল্লার পিপলস হাসপাতালে এই সফল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন ডা. কামরুল ইসলাম মামুন। তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল টানা সাত ঘণ্টা অপারেশন করে রোগীর বাম পায়ের দ্বিতীয় আঙুল এনে তা বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের জায়গায় প্রতিস্থাপন করেন। অপারেশনের পর আঙুলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক আছে এবং নার্ভও সচল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

প্রতিস্থাপন করা রোগী আশরাফুল আলম, পেশায় একজন গাড়িচালক। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থেকেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়ান। কেউ বলেছে হাত কেটে ফেলতে হবে, কেউ আবার বিদেশে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আশাহত আশরাফুল অবশেষে কুমিল্লার পিপলস হাসপাতালে এসে আশার আলো দেখতে পান। চিকিৎসকরা তাকে ৫০ শতাংশ সফলতার নিশ্চয়তা দিয়ে অস্ত্রোপচারে রাজি করান। তার পরের গল্প শুধু চিকিৎসা নয়, এটি সাহস ও সক্ষমতার জয়।

অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ডা. কামরুল ইসলাম মামুন বলেন, কুমিল্লায় এই প্রথম শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হলো। এর আগে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ জোড়া লাগানোর ঘটনা থাকলেও এই রকম অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রতিস্থাপন ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ একটি অপারেশন। ধাপে ধাপে আঙুল শরীরের সাথে খাপ খাওয়ানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কিছু সপ্তাহ সময় লাগবে।’

এই সাফল্যকে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাউছার হামিদ। তিনি বলেন, ‘জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে সাধারণত এমন অপারেশন হয় না। কিন্তু এখন যদি চিকিৎসকরা এভাবে উদ্যোগ নেন, তাহলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বসেই জটিল চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব।’

অস্ত্রোপচারের পর আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে ও দেশে বহু জায়গায় গিয়েছি। সবাই বলেছে বিদেশে গেলে কোটি টাকা খরচ করলেও এই চিকিৎসা সম্ভব হবে কিনা গ্যারান্টি নেই। কুমিল্লায় এসে আমার মতো গরিব মানুষের এ রকম চিকিৎসা হবে, তা ভাবিনি। আমার জীবন থেমে গিয়েছিল। এখন আবার নতুন করে বাঁচার আশা ফিরে পেয়েছি।’

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমদ এই ঘটনার মূল্যায়ন করে বলেন, ‘জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবায় একটি মাইলফলক। এতে বিদেশ নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।’ তিনি মনে করেন, দেশের অন্যান্য জেলা শহরেও যদি এমন উদ্যোগ ও দক্ষতা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

বাংলাদেশে কিডনি, লিভার বা বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন নিয়ে কিছু নজির থাকলেও হাত বা আঙুল প্রতিস্থাপনের মতো জটিল মাইক্রো-সার্জারি জেলা পর্যায়ে এই প্রথম ঘটল। সাধারণত রাজধানী বা বিদেশেই এসব চিকিৎসা সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কুমিল্লার এই অপারেশন দেখিয়ে দিল, যোগ্যতা ও প্রযুক্তি থাকলে জেলা শহরেই সম্ভব নতুন দিগন্তের সূচনা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT