০৩ আগস্ট ২০২৫
তবে এতে এক অজানা বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মতে, এই টুল ব্যবহারে মানুষের মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে স্মৃতি ধারণের ক্ষমতা, কমে যাচ্ছে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্বাভাবিক চিন্তার দক্ষতা।
‘দি কগনিটিভ কস্ট অব ইউজিং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলস’ শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, চ্যাটজিপিটির মতো ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে মানুষের শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ ও তথ্য মনে রাখার সামর্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এমআইটি (MIT)-তে ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে চার মাস ধরে একটি পরীক্ষা চালানো হয়। একদল নিয়মিত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, আরেকদল গুগল, আর শেষ দলটি কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা প্রথমদিকে দ্রুত ফলাফল পেলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তারা আগের মতো তথ্য মনে রাখতে পারছে না, চিন্তাভাবনায়ও জড়তা দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে যারা নিজেরা চিন্তা করে কাজ করেছে, তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও ভাষাগত দক্ষতা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। গুগল ব্যবহারকারীদের অবস্থান ছিল মাঝামাঝি।
গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, চ্যাটজিপিটির অতিরিক্ত ব্যবহার শুধুমাত্র চিন্তাভাবনার ধরনকে প্রভাবিত করছে না, বরং সামগ্রিকভাবে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে করে লেখার দক্ষতা ও নতুন কিছু ভাবার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
সতর্ক পরামর্শ: প্রযুক্তি হোক সহায়ক, নিয়ন্ত্রণহীন নির্ভরতা নয়—এই বার্তাই দিচ্ছে গবেষণা।