নোটিশ:

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ৬ মাসও টিকতে পারবে না : হাসান নাসির

রাজনীতি ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪২২ বার দেখা হয়েছে
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, ছবি: সংগৃহীত
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, ছবি: সংগৃহীত

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির ইউটিউবে প্রচারিত সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এবং প্রধান দলগুলোর অবস্থান নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, ক্ষমতার দৌড়ে বিএনপি পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হলো, তারা আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পথে না হেঁটে, ক্ষমতা দখলের জন্য ক্ষমতাসীন দলের ব্যর্থ মডেলকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিনের অপপ্রচারের মিথ ভেঙে সুশৃঙ্খলতা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে।

হাসান নাসির মনে করেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যথেষ্ট তিক্ত ধারণা রয়েছে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে, আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসন থেকে দেশ মুক্ত হলেও, জনগণ আবার আরেকটা স্বৈরাচার দেখতে পাওয়ার আভাস পাচ্ছে। এই আতঙ্কই হয়তো জনগণের দৃষ্টি জামায়াতের দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিএনপির পিছিয়ে থাকার মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দলটি একটি ‘অপশক্তির’ উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। আওয়ামী লীগ যেমন ভারতের উপর নির্ভর করে এবং একটি সেট প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সিস্টেম তৈরি করে নির্বাচিত হওয়ার পরেও ছয় মাসের বেশি টিকতে পারেনি, বিএনপিও যেন ঠিক সেই একই মডেল বা সিস্টেমকে অ্যাডাপ্ট করে নিতে চাইছে। এই প্রবণতা জনগণকে সব থেকে বেশি হতাশ করছে। তিনি মনে করেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা ছয় মাসও ধরে রাখতে পারবে না কারণ তাদের কোনো কেন্দ্রীয় শক্তিশালী নেতৃত্ব নেই। অর্থাৎ, বিএনপি আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারের পতনের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কোনো শক্তিশালী ও নিজস্ব পথ তৈরি করতে পারেনি; বরং তারা ভারতের সংশ্লিষ্টতায় একটি ‘পুরনো বন্দোবস্তের’ নির্বাচন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার দুর্বল মডেলের উপর ভরসা রাখছে। এই ‘পুরনো বন্দোবস্তের’ হিসাব হলো, ভোট কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে যে এলাকায় দলের কতজন শক্তিশালী ও অর্থবান প্রার্থী আছে, তাদেরকে জিতিয়ে আনা। জনগণের প্রত্যাশা হলো, মানুষ নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যাবে, ভোট দেবে এবং প্রকৃত ভোটটাই গণনা হবে। কিন্তু বিএনপি যদি পুরনো বন্দোবস্তের ইলেকশনের দিকে যায়, তবে দেশ আবার একটা বিশৃঙ্খল বা স্বৈরাচারী সিস্টেমের দিকে চলে যাবে।

অন্যদিকে, হাসান নাসির দেখান, জামায়াতে ইসলামী এই হতাশাজনক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরের চরম অত্যাচারিত হওয়া এবং শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ এর মাধ্যমে হত্যা করার পরেও এই দলটি অত্যন্ত সংগঠিত ও শৃঙ্খলার সাথে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। জামায়াত বা তাদের অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে যে মিথ বা অপপ্রচার ছিল, সে ব্যাপারে জনগণের ধারণা যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি দেখান, হাসিনা সরকার চলে যাওয়ার পরে আওয়ামী লীগের শত শত কর্মীকে ‘রগ কাটা’ অবস্থায় দেখা যায়নি। বরং, জামায়াতকে কোনো রকম চাঁদাবাজি বা দখলবাজি কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জামায়াতের ছাত্র সংগঠনকে, যার বিরুদ্ধে ‘রগ কাটা’র মতো সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার ছিল, এখন ১৮০ ডিগ্রি অপোজিট একটা ছাত্র সংগঠন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ধারণায় প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসেও তারা ছাত্র কল্যাণে নিয়োজিত এবং অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এই ধরনের ইতিবাচক কার্যকলাপ, বিশেষ করে ছাত্র কল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকা এবং কোনো দখলবাজি বা বিশৃঙ্খলায় না জড়ানো — এই জিনিসগুলোই জনগণের এই ধারণা পাল্টাতে সাহায্য করছে। জনগণের এই সচেতনতা এবং জামায়াতের সুশৃঙ্খলতা যদি বজায় থাকে, এবং যদি ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়, তবে ফলাফল সবাইকে অবাক করবে, যেভাবে ইউনিভার্সিটিগুলোতে হয়েছে ।

সাক্ষাৎকারের শেষে, হাসান নাসির বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এখন আর ভারত ‘রিজিওনাল পাওয়ার’ (আঞ্চলিক শক্তি) নেই। আয়তনের দিক থেকে বড় দেশ হলেও, সামরিক বা স্ট্রাটেজিক শক্তি হিসেবে তিনি ভারতকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন। এই দুর্বলতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের কারণে সৃষ্ট সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT