
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অভিযোগ তুলেছেন, শাসকদলের একাংশ ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলার সফরের ঠিক আগে এমন মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার বেলডাঙায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “বাবরি মসজিদ হবেই। শাসকদল আর প্রশাসনের কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে।” তার দাবি, উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক স্তরে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তৃণমূলের বেশ কিছু দলীয় কর্মসূচি থেকেও দূরত্ব বজায় রাখছেন—যা দলীয় অস্বস্তি বাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরে তিনি অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বাবরি মসজিদ ইস্যুতে প্রশ্ন উঠলে হুমায়ুন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “জগন্নাথ মন্দির করলে যদি বিতর্ক না হয় তাহলে বাবরি মসজিদের কিসের বিতর্ক?” ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।
মসজিদ নির্মাণের জন্য যে জমির কথা বলা হচ্ছে, তার মালিকানা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দাবি, জমিটি তার নিজের নামে হলেও এখনো কেউ তা ক্রয় করেনি। ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া এড়াতে ইতিমধ্যে জমিটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এ বিষয়ে নীরব থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়কের ধারাবাহিক দলবিরোধী অবস্থান রাজ্যের শাসকদলের ভেতরে নতুন অস্বস্তি তৈরি করছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।