নির্বাসন থেকে নেতৃত্বে: তারেক রহমানের রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের দুই পা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রামে প্রশ্নফাঁসের অভিযুক্তদের পুনর্বহাল চেষ্টায় উত্তেজনা, মানববন্ধনে অপসারণের দাবি সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে কুবির বিজয়-২৪ হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কুবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন দুই প্রতিমন্ত্রী বুটেক্সে টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট দশম আসরের ক্যাম্পাস ডে আয়োজিত বালিয়াকান্দিতে মানবাধিকার সংগঠনের নামে প্রতারণা ॥ ৩জনকে পুলিশে দিয়েছে জনতা রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় গলার ওড়না পেঁচিয়ে সাংবাদিকের মায়ের মৃত্য বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ঘর ভেঙে পড়ে কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু

নির্বাসন থেকে নেতৃত্বে: তারেক রহমানের রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮১ বার দেখা হয়েছে

১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর দেশে ফিরে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে তার একক নেতৃত্বই এখন দল ও দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনিই প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখন বিএনপির একক মুখ—সমর্থকদের ভাষায় ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’।

দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচনে নেই। ফলে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে তার আগমন ছিল অনেকটাই অনিবার্য। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া-র অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা করছিলেন তিনি। তবে এবার সরাসরি মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তিনি।

৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিকূল সময়ে বিদেশে থেকেও দলকে ভাঙন থেকে রক্ষা করা তারেক রহমানের বড় সাফল্য। তবে এখন প্রশ্ন—নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় তিনি কতটা কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেন।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বনানীর ‘হাওয়া ভবন’কে ঘিরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির অভিযোগ, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ড—এসব ইস্যুতে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও পান।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি। তার নির্বাচনী হলফনামায় মোট ৭৭টি মামলার তথ্য উল্লেখ আছে, যেগুলো থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিএনপি বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে।

বিএনপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৬৫। তবে নির্বাচনী হলফনামায় জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ২০ নভেম্বর ১৯৬৮।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনার তথ্য দলীয় সূত্রে থাকলেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন তিনি দলের একক নেতৃত্বে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে তিনি একটি বড় রাজনৈতিক মঞ্চ পেয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটি তার জন্য কঠিন পরীক্ষা—কারণ প্রায় ৫০টির মতো আসনে বিএনপিরই নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমান প্রতিকূল সময় দেখেছেন—কারাগার, নির্বাসন, মামলা, নিষেধাজ্ঞা। এখন প্রশ্ন, এই অভিজ্ঞতা তাকে কতটা পরিণত নেতৃত্বে রূপ দেবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনই তার একক নেতৃত্বের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। এই নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে—তিনি শুধু দলের নেতা হিসেবেই থাকবেন, নাকি জাতীয় নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT