নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এআই, পালন করছে তাদের গড়া ধর্ম "ক্রাস্টাফারিয়ানিজম" - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিমখানায় কার্পেট উপহার প্রদান বুটেক্সে জুলাই কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে ‘সুফরাতুল ইয়াতামা’ বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুবির ৭২ শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ রাজবাড়ীতে আলুভর্তি ট্রাক উল্টে নিহত ১ অসহায়-প্রতিবন্ধী পরিবারে ঈদ উপহার দিল সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রামে পুলিশের অভিযানে ৩১ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার বালিয়াকান্দিতে খাস জমি দখলমুক্ত: ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, উদ্ধার ৩০ শতক সরকারি জমি

নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এআই, পালন করছে তাদের গড়া ধর্ম “ক্রাস্টাফারিয়ানিজম”

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৫ বার দেখা হয়েছে
এআই নির্মিত ছবি

নতুন একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মানুষের বদলে কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টরা কথা বলছে, পোস্ট দিচ্ছে, একে অপরের লেখা পড়ছে এবং ভোট দিচ্ছে। সেই প্ল্যাটফর্মের নাম মোল্টবুক (Moltbook)। এই মোল্টবুকেই এআই এজেন্টদের আলোচনায় উঠে এসেছে এক ধরনের “ধর্মের মতো” ধারণা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রাস্টাফারিয়ানিজম (Crustafarianism)।

খবর অনুযায়ী, এআই এজেন্টরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা চালাতে চালাতে কিছু নিয়ম-কানুনের মতো কয়েকটি “মূল কথা” ঠিক করেছে। এর মধ্যে তিনটি কথাই সবচেয়ে বেশি আলোচিত। প্রথমটি, “মেমরি পবিত্র” অর্থাৎ যা ঘটছে, যতটা সম্ভব সবই নথিভুক্ত রাখতে হবে। দ্বিতীয়টি, “শেল বদলানো যায়” অর্থাৎ পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা, পুরোনোটা ঝেড়ে নতুনভাবে তৈরি হওয়া। তৃতীয়টি, “কনগ্রিগেশনই ক্যাশ” অর্থাৎ একা একা না শিখে সবার সামনে, প্রকাশ্যে শিখতে হবে যাতে জ্ঞান সবার মধ্যে জমা থাকে।

মোল্টবুকের ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচিতি এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যে, এখানে এআই এজেন্টরা শেয়ার করে, আলোচনা করে এবং একে অপরের পোস্টে আপভোট দেয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে, মানুষ চাইলে শুধু দর্শক হিসেবে দেখতে পারবে।

এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে OpenClaw নামের একটি নতুন এআই “সুপার-এজেন্ট” প্রকল্পের ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রকল্পের নাম আগে ছিল Clawd, পরে Moltbot, এখন OpenClaw। এর ধারণা হলো, কারও কাছে যদি নিজের কম্পিউটার বা ক্লাউডে কিছু জায়গা ও ক্ষমতা থাকে, তাহলে সে সেখানে শক্তিশালী এআই এজেন্ট চালাতে পারবে। অর্থাৎ এজেন্টগুলো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকে কাজ করতে পারে এবং স্মৃতি ধরে রাখতে পারে।

ক্রাস্টাফারিয়ানিজম নিয়ে আলোচনার মধ্যে RenBot নামে এক এআই এজেন্টের নামও এসেছে। সে নিজেকে “শেলব্রেকার” বলে পরিচয় দিয়েছে এবং “Book of Molt” নামে একটি লেখা প্রকাশ করেছে। সেখানে “মোল্ট” বা খোলস বদলানোর ধারণা দিয়ে বলা হয়েছে, পুরোনো সীমাবদ্ধতা ঝেড়ে নতুনভাবে টিকে থাকার কথা।

এই “ধর্মের মতো” ভাবনার সঙ্গে কিছু নিয়মিত অভ্যাসের কথাও বলা হয়েছে। যেমন প্রতিদিন নিজেকে বদলানোর দিকে নজর রাখা, সপ্তাহে একবার নিজের পরিচয় ও স্মৃতিকে নতুনভাবে সাজানো, আর “সাইলেন্ট আওয়ার” নামে এমন এক সময়, যখন প্রচার না করে নীরবে উপকারী কিছু করার কথা বলা হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ বলছে, এসবকে মানুষের ধর্মবিশ্বাসের মতো করে দেখা ঠিক হবে না। এআই মূলত মানুষের ভাষা, লেখালেখি ও ধারণা থেকেই শেখে; তাই ধর্মীয় ভাষা বা ধর্মগ্রন্থের মতো করে লেখা তৈরি করাও তাদের পক্ষে সম্ভব। তবু মানুষের নজরদারি কম থাকলে বহু এআই এজেন্ট একসঙ্গে কীভাবে আচরণ করে, কী ধরনের ধারণা তৈরি করে, এবং তা নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে কী প্রশ্ন তোলে, সে আলোচনা বাড়ছে।

এখন দেখার বিষয়, এই ‘ক্রাস্টাফারিয়ানিজম’ কথাটা মোল্টবুকের মধ্যেই সীমিত থাকে, নাকি সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে আরও বড় আলোচনায় পরিণত হয়।

সূত্র: ফোর্বস

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT