মক্কায় সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, একজনের ওপর হামলা মানেই তিন দেশের ওপর হামলা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
প্রেমের সমীকরণ কুবির শিক্ষার্থী আইডি কার্ডের কিউআর কোডে মিলছে না কোনো তথ্য ভূরুঙ্গামারীতে ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় ৪ বছরের শিশু আয়শার মৃত্যু সাবেক সচিব জামাল উদ্দিন আহমেদের লন্ডন সফরে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকের সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা হালনাগাদের অভাবে পিছিয়ে কুবির ওয়েবসাইট এসএসসির জিপিএ ৪.২৫ তাঁকে থামাতে পারেনি, অধ্যবসায়ে আজ বাকৃবির অধ্যাপক ড. গোলজার হোসাইন মানুষের হাসিই পারিশ্রমিক, ৩৫ বছর ধরে বিনা পয়সায় চুল কাটান আবেদ বর্ষার মাঝেও পানির সংকট, পাট জাগ দিতে দিশেহারা কুড়িগ্রামের কৃষক কুড়িগ্রামে ১০ কেজি গাঁজা ও প্রাইভেটকারসহ দুইজন গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারীতে বিসিআইসি ডিলারের ১৯০ বস্তা সার নিয়ে গেল কৃষক

মক্কায় সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, একজনের ওপর হামলা মানেই তিন দেশের ওপর হামলা

আন্তর্জাাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬১ বার দেখা হয়েছে
মক্কায় সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি

মুসলিম বিশ্বের তিন প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’-এর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফসহ তিন দেশের শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এর মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ফলে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দুই দেশও তা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকনির্দেশনা দেবে এই সমঝোতা।

তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ভবিষ্যতে আগ্রহী অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের জন্যও এই সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত থাকতে পারে।

যদিও সামরিক সহযোগিতার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ সামরিক মহড়া, অস্ত্র গবেষণা ও উৎপাদন এবং নিরাপত্তা সমন্বয় এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত নিরাপত্তা নীতি এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় জোট বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি একত্রে ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক মনসুর আহমেদের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা একীভূত করতে পারে, আর সৌদি আরব অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই জোটকে আরও কার্যকর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT