
ঢাকায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায় বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীন প্রস্তাবিত নীলফামারীর এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায় বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্পে, যা উত্তর বাংলাদেশের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে। হাসপাতালটি চালু হলে রোগীদের বিদেশ বা বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং আঞ্চলিক চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রকল্পের প্রধান তথ্য:
অবস্থান: নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নে, সৈয়দপুর–নীলফামারী সড়কের পাশে ২৫ একর জমিতে
শয্যা সংখ্যা: ১,০০০
প্রকল্প ব্যয়: ১,৪৮০ কোটি টাকা (পূর্ণ অনুদান)
সমাপ্তির লক্ষ্য: ২০২৮
উদ্দেশ্য: উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা, স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী জেলা রোগীদের সেবা, ঢাকা ও রংপুরের হাসপাতালগুলোর চাপ কমানো
বৈঠকে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথা জানান এবং কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু সম্পন্ন হওয়ার জন্য শুভকামনাও জানান।