ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, ইসির কাছে জানতে চেয়ে চিঠি - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুবিতে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন কুবির নটরডেমিয়ান পরিবারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ১১০ এতিম শিশুর সঙ্গে ইফতার

ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর কী বিধান, ইসির কাছে জানতে চেয়ে চিঠি

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক, সিলেট।
  • আপডেট সময় রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮১ বার দেখা হয়েছে

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে সংবিধান কী বলে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন।

“দ্বৈত নাগরিকত্বের সঙ্গে আইন প্রণয়ন সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকত,” বলা হয় চিঠিতে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লেখা একটি চিঠিতে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে লন্ডনভিত্তিক সামাজিক সংগঠনটি।

চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা প্রার্থনা করছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম।”

৬ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার চিঠি’র নিচে সংগঠনটির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী মনোয়ার হোসেন এর স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এটি প্রণীত হয় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে।

“ওই সময় সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয় একটি উদ্বেগ থেকে। এর লক্ষ্য ছিল, যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা যেন সংসদের সদস্য হতে না পারে। ওই সময় বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না।”

চিঠিতে লন্ডনভিত্তিক সংগঠনটি বলেছে, “১৯৭২ সালে ডিসেম্বরে সংবিধান অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২’ জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই সংবিধান অনুমোদনের পরপরই নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

“বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (দ্বিতীয়) আদেশ, ১৯৭৮ প্রবর্তিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব নিলেই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হবে না। সরকারকে বৈধ দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয় তাতে।”

চিঠিতে বলা হয়, “এই ক্ষমতাবলে জারি হওয়া এসআরওর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে দ্বৈত নাগরিকত্ব দেওয়া দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনিভাবে স্বীকৃত বৈধ দ্বৈত নাগরিক, যাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে।

“২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৬(২ক) ধারা সংযোজন করা হয়। যেখানে এটা নিশ্চিত করা হয় যে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাস্তবে পরিত্যাগ করা হয়েছে। যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়নি, সেখানে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।”

সংগঠনটি বলেছে, “কখনো কখনো যুক্তি দেওয়া হয় যে, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা। এ কারণে তাদের সংসদ সদস্য হওয়া উচিত নয়। তবে এ যুক্তি সাংবিধানিক বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।”

বাংলাদেশের সংবিধান দ্বৈত নাগরিকদের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকক্বের সঙ্গে আইন প্রণয়নের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।”

সংগঠনটি বলেছে, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে অন্যত্র স্থানান্তর করেননি। সুতরাং তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অস্বীকার করা সাংবিধানিক অভিপ্রায়, প্রচলিত আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

“অতএব আমরা বিনীতভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, যেন এটা নিশ্চিত হয় যে, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।”

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT