নোটিশ:

মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের ভারতে পলায়ন: জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৭৩ বার দেখা হয়েছে
Screenshot 2025-10-15 161532

গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ সম্প্রতি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৯ অক্টোবর সিলেটের তামাবিল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে কলকাতার নিউ টাউনের সানজিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছিল। সেনা সদর জানিয়েছে, কবীর আহাম্মদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে “অবৈধভাবে অনুপস্থিত” ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ভারতে একজন কর্মরত জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া শুধু সেনাবাহিনীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি। তিনি বলেন, যারা তাকে পালাতে সহায়তা করেছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শহীদুজ্জামানও ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, সেনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে সীমান্ত ও বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি ছিল—তবুও একজন উচ্চপদস্থ জেনারেলের দেশত্যাগ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন তোলে।

সূত্রমতে, কবীর আহাম্মদ গত কয়েক মাস ধরে কলকাতায় যাতায়াত করছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর জানার পর স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যান। একই আবাসিক কমপ্লেক্সে পূর্বে পালিয়ে যাওয়া আরেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেনও অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

জেনারেল কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে ডিজিএফআই-এর কাউন্টার টেররিজম ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে গুম ও নির্যাতনে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ ও জমি-বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্প্রতি শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেল কবীরের পলায়ন কেবল ব্যক্তিগত নয়—বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি প্রত্যক্ষ হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT