নোটিশ:
শিরোনামঃ
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই গবেষণা ও দক্ষতার সেতুবন্ধ এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

১১ বছর পর জামিনে মুক্তি পেলেন ইসলামী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫১২ বার দেখা হয়েছে
Shafiur Rahman Farabi
দীর্ঘ ১১ বছর পর জামিনে মুক্ত ফারাবী

দীর্ঘ ১১ বছরের কারাবাস শেষে অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন জনপ্রিয় ইসলামী লেখক ও ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। আদালতের আদেশের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন যে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা বাকি নেই, এরপরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩১ জুলাই বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে. এম. রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত করার আবেদন করলেও চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন, ফলে হাইকোর্টের জামিন বহাল থাকে।

আদালতে ফারাবীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এস. এম. শাহজাহান ও মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, মামলার অন্য আসামিদের কোনো স্বীকারোক্তিতে ফারাবীর নাম নেই, কোনো প্রত্যক্ষদর্শী তাকে অভিযুক্ত করেনি, এমনকি তিনি নিজেও কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। অথচ ২০২১ সালে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর সেই বছরই ফারাবী হাইকোর্টে আপিল করেন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় লেখক অভিজিৎ রায় খুন হন এবং তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই বছরের ৬ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করেন এবং ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

হাইকোর্টে তার মামলার কার্যক্রম চলমান থাকলেও আজকের জামিন তার পরিবারের কাছে এক নতুন আশার আলো। ফারাবীর সমর্থকরা বলছেন, এই মুক্তি প্রমাণ করেছে যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে দীর্ঘদিন বন্দি রাখা হয়েছিল।

মুক্তির খবরে তার পরিবার, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ এক দশকের অধিক সময় কারাগারে কাটানোর পর আজকের এই দিনটি তাদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি আইনের প্রতি আস্থার প্রতীক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT