৩৭ বছর পর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলেন দুই বাংলাদেশি সাঁতারু - সাগর ও হিমেল - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা আদর্শিক নেতৃত্বই জাতিকে এগিয়ে নেয়—আফগানিস্তানের উন্নয়ন তার প্রমাণ: মামুনুল হক নোয়াখালীতে তাহাজ্জুদের সময় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু ভারত অনুমতি না দেওয়ায় বুড়িমারীতে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য আটকে অরুণাচলে মসজিদে ঢুকে ইমামকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলাতে চাপ গেজেট বঞ্চনার প্রতিবাদে ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘The Voice of JKKNIU’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঢাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে সকল ক্লাস অনলাইনে — শীতকালীন ছুটি অনিশ্চিত ঝিনাইদহে কুলখানি–বিতর্কে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া

৩৭ বছর পর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলেন দুই বাংলাদেশি সাঁতারু – সাগর ও হিমেল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪৫ বার দেখা হয়েছে

একদিন দেশের সেরা সাঁতারু হয়েছিলেন মাহফিজুর রহমান সাগর। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাঁতারে অংশ নিয়ে অবসর নেওয়ার পরেও তিনি থেমে যাননি। কোচিংয়ে মন দিলেও নিজেকে বেঁধে রাখেননি শুধু সুইমিং পুলে। একসময় নিজের শরীরকে তৈরি করলেন নতুন এক চ্যালেঞ্জের জন্য—ইংলিশ চ্যানেল পার করার।

এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিলেন আরেক বাংলাদেশি সাঁতারু, নাজমুল হক হিমেল। দুই বাংলাদেশিকে সঙ্গে নিয়ে ৬ জনের একটি দল গঠন হয়। বাকি চারজন ছিলেন তিনজন ভারতীয় ও একজন মেক্সিকান। তাদের লক্ষ্য একটাই—ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল জুলাইয়ের শেষ দিকে। কিন্তু ইংল্যান্ডের সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়ার খামখেয়ালির কারণে মূল অভিযানের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২৯ জুলাই, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় এবং ইংল্যান্ড সময় রাত আড়াইটায়, শুরু হয় সেই বহুপ্রত্যাশিত যাত্রা।
দুই কৃতি সাঁতারুর অনুভূতি শুনতে এখানে ক্লিক করুন।

এটা কোনো একক অভিযান ছিল না—একটি রিলে সাঁতারের মাধ্যমে তারা পুরো দল মিলে একে একে পানিতে নামেন, একজন সাঁতারু এক ঘণ্টা সাঁতারের পর পরবর্তীজন তাকে বদলে নেন। এভাবে ৬ জন মিলে টানা ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে সাঁতরে ইংল্যান্ডের ডোভার উপকূল থেকে ফ্রান্সের ক্যালাইস পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন।

এই সাফল্যের জন্য শুধু মানসিক প্রস্তুতি নয়, শারীরিকভাবেও সাগরকে নিতে হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। শীতল পানিতে সাঁতারের উপযোগী শরীর গঠনের জন্য প্রায় ২০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে তাকে। ইংল্যান্ডে পৌঁছে ঠাণ্ডা পানিতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দিনরাত অনুশীলন করেছেন তিনি ও হিমেল।

অভিযানের আগে সাগর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “এটি ছিল রোলার কোস্টার অনুভূতি। আমরা যেভাবে সময় কাটিয়েছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। ৩৭ বছর অপেক্ষার পর এখন সময় এসেছে ইংলিশ চ্যানেলে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। এটি রিলে হলেও, বহু বছরের পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ফসল। শুধু আমি নই—এটা তুমি, এটা আমরা, এটা বাংলাদেশ। চলো একসঙ্গে এগিয়ে যাই।”

এই স্ট্যাটাস শুধু তার ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং এ ছিল বাংলাদেশের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার প্রকাশ। দেশের পতাকা হাতে নিয়ে তার এই অভিযাত্রা যেন জানান দিয়ে গেল—স্বপ্ন কখনো পুরোনো হয় না, যদি থাকায় দৃঢ়তা আর ভালোবাসা।

এই সাফল্য এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ। ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশের ব্রজেন দাস প্রথম বাঙালি এবং প্রথম এশীয় হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। তিনি মোট ছয়বার এই চ্যানেল পার করেছিলেন, এমনকি সবচেয়ে কম বয়সে পাড়ি দেওয়ার রেকর্ডও গড়েছিলেন। এরপর ১৯৬৫ সালে আবদুল মালেক এবং ১৯৮৭ সালে মোশাররফ হোসেন চ্যানেল পার করেছিলেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর আবার দুই বাংলাদেশি সাঁতারু এই সাফল্যের গল্প লিখলেন।

সাগর ও হিমেলের এই সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জয়। এটি প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে ও সংকল্প থাকলে বাংলাদেশিরা বিশ্বমঞ্চে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। তাদের এই যাত্রা আজকের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, দেখিয়ে দেবে স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়।

সাগর ও হিমেলের এই কৃতিত্বকে সামনে রেখে আমরা বলতে পারি—সাবাস বাংলাদেশ!

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT