বাংলাদেশে যখন মানুষ একটি সহনশীল কল্যান রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করছে, তখন অতীতের সন্ত্রাসী মাফিয়াতন্ত্রের কালো ছায়া আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিচিতি পাচ্ছে ‘ বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনী’ নামের একটি কথিত মিলিশিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ৭১-এর চেতনার পক্ষ দাবি করলেও কার্যত তাদের তৎপরতা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
বিশেষত গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনশ্রুতি উঠে এসেছে যে, পতিত আওয়ামী লীগ দেশব্যাপি সশস্ত্র মিলিশিয়া গঠন করছে বঙ্গবন্ধু গেরিলা বাহিনী নামে। সশস্ত্র এই গোষ্ঠী গোপনে সদস্য সংগ্রহ ও অস্ত্রের মজুদ করছে। সাম্প্রতিক গোপালগঞ্জের ঘটনার পর একটি অডিও বার্তা ও কিছু ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে এই বাহিনীর কথিত প্রধানের বক্তব্য, যেখানে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারে আক্রমনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নিজেদের বাহিনীকে যুদ্ধ-প্রস্তুত দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নতুন কোনো গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ নয় বরং পলাতক মাফিয়া শক্তির পুনর্জন্ম। বিপুল কালো টাকা ও প্রচুর সংখ্যক অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এই সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিয়েছে। এছাড়াও অডিও বার্তায় ভারতীয় সহায়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।
বিশ্লেষণ বলছে, এই বাহিনী টার্গেট কিলিং এবং গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলে অনুপ্রবেশ করে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়াও তাদের কৌশলের অংশ। এমন একটি সময় তারা সক্রিয় হয়ে উঠছে, যখন বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলে সহানুভূতি পেতে পরিকল্পিত সহিংসতা ও লাশ ফেলার কৌশল বাস্তবায়ন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হত্যার গুজব ছড়ানো, জাতিগত সংঘাত উস্কে দেওয়া সবই এই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিও বার্তায় বারবার এমন উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত ছিলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, সেখানে দেখা যাচ্ছে নেতিবাচক নির্লিপ্ততা। এখন পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত খুনি সন্ত্রাসীদের বড় অংশই ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও ঐক্যবদ্ধভাবে এই হুমকির বিরুদ্ধে সরব নয়। রাজনৈতিক বিভাজন ও দোষারোপের চক্র এই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি মোকাবেলার জন্য জাতীয় ঐক্য গঠনের রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সব দলকে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের হাত দিয়ে সংঘটিত অতীত ও চলমান গণহত্যার বিচার অবিলম্বে শুরু করতে হবে। বিচারহীনতা থেকেই পুনর্জন্ম নিচ্ছে এসব রক্তপিপাসু গোষ্ঠী। আর দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন ও অফলাইন, উভয় ক্ষেত্রে গোপন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ জরুরি। সাথে সাথে ভারতের অপতৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে কূটনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।