জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ - উত্তরার দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কত? - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
রাবেয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বর্বরোচিত হামলা; রক্তাক্ত দৈনিক রাজবাড়ী কন্ঠের অফিস সহায়ক দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে নেই ভোগান্তি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জমকালো আয়োজনে বুটেক্সে শুরু হলো অ্যালামনাই সুপার কাপ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আইসিএমএবি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হসপিটালে ছাত্র, শিক্ষক অবরুদ্ধ পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ঝলসে গেলেন মনিরা ড. রশিদুন্ নবীর হাতে উঠছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’

জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ – উত্তরার দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮৭ বার দেখা হয়েছে

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে গোটা দেশ শোকাহত। তবে সেই শোকের মধ্যেও একটি প্রশ্ন যেন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে—আসলে এই দুর্ঘটনায় কতজন প্রাণ হারিয়েছেন? কতজন আহত হয়েছেন?

সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় যাচাই ও শনাক্তকরণে ডিএনএ টেস্টসহ আধুনিক সকল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে এবং একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে নিখোঁজদের সন্ধানে স্কুলের রেজিস্ট্রেশন খাতা ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালের ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান—মোট ২০ জনের মৃতদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারী হিসেবে নিহত ২০, কেউ বলছেন নিহতের সংখ্যা  ১২০ বা তার বেশি। কেউবা আবার বলছেন, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং একাধিক অভিভাবক প্রশ্ন তুলছেন—যখন ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তখন সরকারি হিসাব এত ধীরে সামনে আসছে কেন?

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “আজকের মর্মান্তিক ঘটনায় যদি কারো সন্তান নিখোঁজ থাকে, তিনি নিশ্চয়ই চুপ করে থাকবেন না। আমি গত চার ঘণ্টায় ২৩ জন আহত শিশুর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি—তাঁরা সন্তানদের হাসপাতালে খুঁজে পেয়েছেন। তবে এখনো যদি কেউ নিখোঁজ থাকে, তাঁরা যেন সরাসরি বিষয়টি সামনে আনেন।” তিনি নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহে একটি গুগল ফর্মও প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন মহল থেকে হতাহতের তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই, এ দাবি সঠিক নয়।” প্রশাসনের দাবি, তারা সঠিক ও নির্ভুল তালিকা তৈরিতে একযোগে কাজ করছে।

তবে এতসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জনমনে একটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। একটি জাতীয় ট্র্যাজেডির পরবর্তী সময়ে যে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা প্রত্যাশিত, তা নিয়ে অনেকেই অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ বলছেন, সংখ্যাটি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সরকার কীভাবে একটিও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারছে না?

এই প্রশ্নের জবাব এখন সময়ই দেবে। তবে স্পষ্টতা ছাড়া শোক কেবল গভীর হয়, বিভ্রান্তি কেবল বাড়ে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT