বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা এক নতুন গৌরবের অধ্যায়। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২৫ সালের এই জুলাইয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় করে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ, যেখানে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ব্যাটিং আর শেখ মেহেদী হাসানের অসাধারণ বোলিং বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাদের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর বাংলাদেশের বোলাররা প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান চার উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করে। তার চার ওভার বোলিংয়ে ছিল একটি মেডেন ওভার, এবং মাত্র ১১ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেয়া তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং রেকর্ড। এছাড়া পেস বোলার শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও শামীম হাসানও নিজেদের দিক থেকে ভালো বোলিং করেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন শূন্য রানে আউট হন। তবে এরপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাস ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। তানজিদ ৪৭ বলে ৬ ছক্কা ও ১ চারে সজ্জিত ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। লিটন দাসও ৩২ রান করেন, যেখানে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার ছিল। সঙ্গে ছিলেন অপরাজিত তাওহিদ হৃদয়, যিনি ২৫ বলে ২৭ রান করেন।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে প্রথম থেকেই চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের বোলাররা। ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে প্রথম ওভারের শুরুতেই হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত কুশল পেরেরা, দিনেশ চান্দিমাল ও চারিথা আশালঙ্কা সাজঘরে ফিরে যান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে পাথুম নিশাঙ্কা ৩৯ বলে ৪৬ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোর করেন, তবে তার পারফরম্যান্স দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। কামিন্দু মেন্ডিস ১৫ বলে ২১ এবং দাশুন শানাকা ২৫ বলে ৩৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেললেও সেটি দলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারেনি।
বাংলাদেশের বোলাররা নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেয়। শেখ মেহেদীর পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট লাভ করেন। শ্রীলঙ্কার ২০ ওভারে ১৩২/৭ রানের সংগ্রহ ছিল ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশি বোলারদের অসাধারণ অবদান।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে পারভেজের আগাম উইকেট হারানোও শেষ পর্যন্ত দলের মনোবল পতন ঘটাতে পারেনি। লিটন দাস ও তানজিদ তামিম একজোট হয়ে নিজেদের রানের পাহাড় গড়ে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে আসেন। লিটন ২৬ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন যেখানে তার তিনটি চার ও ছক্কা ছিল। তার পরে তানজিদ ৪৭ বলে ৭৩ রানের ঝড়ো ব্যাটিং করেন, যার মধ্যে ছিল ছয়টি ছক্কা ও একটি চার। তাওহিদ হৃদয় ২৫ বলে ২৭ রান করে ম্যাচে অবদান রাখেন। দল ১৬.৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে।
এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক, কারণ এটি দেশের প্রথম শ্রীলঙ্কায় কোনো সংস্করণে সিরিজ জয়। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই সাফল্য দেশের ক্রিকেটকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। শেখ মেহেদী হাসানের পারফরম্যান্স ম্যাচ সেরা হওয়ার পাশাপাশি সিরিজের ম্যান অফ দ্য সিরিজ হয়েছেন লিটন কুমার দাস।