সম্প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও চীনের প্রতি তাদের কৌশলগত ঝোঁক ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ত্রিপুরায়। এমনটাই উঠে এসেছে ভারতের পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চাকরি প্রস্তুতির জন্য জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল স্টাডিআইকিউ আইএএস-এর একটি ভিডিও লেকচারে। গত ৯ জুলাই চ্যানেলটিতে আপলোড হওয়া ওই ভিডিওতে সঞ্চালক অরবিন্দ গুলেরিয়া ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের রেফারেন্স দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অরবিন্দ গুলেরিয়া জানান, ত্রিপুরার ভৌগলিক অবস্থান এমন এক জায়গায়, যেখানে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বেশ দুরূহ। ফলে বাংলাদেশের ভূমির মধ্য দিয়েই পণ্য পরিবহনের উপর নির্ভরতা অনেক বেশি। বহু বছর ধরে এই রুট ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি, কাঁচামাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে তারা চীনের সঙ্গে অধিক বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতা স্থাপন করছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় চীনের পণ্য ও চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে। এই অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট চুক্তি ও প্রোটোকল-ভিত্তিক বাণিজ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির ফলে আমদানি খরচ বেড়ে গেছে, পণ্য আসতে দেরি হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও খুচরা বাজারে এর সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ত্রিপুরা চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, বিগত তিন মাসে অন্তত ৩৫ শতাংশ আমদানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ভৌগলিক ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব এখন এই সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলছে। এমন এক সময়ে, ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য বিকল্প রুট, স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।