নোটিশ:
শিরোনামঃ
নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা জনস্বাস্থ্যনীতিরও অংশ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ধোঁয়াশা, সাত প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি নেপালের বন্যা পুনর্গঠনে জাতিসংঘ তহবিলের ২ কোটি ডলারের প্রাথমিক বরাদ্দ হরমুজ প্রণালিতে অক্টোবরে জাহাজে হামলার রেকর্ড, বাড়ছে নৌবাণিজ্যের ঝুঁকি ইউরোপের গ্রীষ্মের তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাডমিন্টন উন্নয়নে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রতিবেশে শিল্পকারখানার বায়ুদূষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ ডেঙ্গুতে আরও তিন মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১২৯৯ রোগী

১২৩ থেকে ৪৭ তম বনাম ৪০ থেকে ৪৭ তম: অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে ছড়ানো দুটি দাবীই ভুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৪৩৩ বার দেখা হয়েছে
১২৩ থেকে ৪৭ তম বনাম ৪০ থেকে ৪৭ তম: অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন নিয়ে ছড়ানো দুটি দাবীই ভুয়া

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং নিয়ে দুটি ভিন্ন দাবি প্রচারিত হয়েছে। একটি দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র ৮ মাসে বাংলাদেশকে ১২৩ তম থেকে ৪৭তম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। অন্য একটি দাবিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আগে ৪০তম ছিল, ৮ মাসে পিছিয়ে এখন ৪৭তম হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার নামে একটি ফ্যাক্ট চেকিং টিমের অনুসন্ধানে জানা যায় এর দুটি দাবীই মিথ্যা।

এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের উৎস হিসেবে ইউএস নিউজ নামে একটি মার্কিন মিডিয়া সংস্থার র‍্যাঙ্কিংকে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএস নিউজ প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বের দেশগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। তবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ইউএস নিউজের সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিং ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ২০২৪ সালের ২২ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত করা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি। অর্থাৎ, সর্বশেষ যে র‍্যাঙ্কিং ইউএস নিউজের ওয়েবসাইটে রয়েছে তা বাংলাদেশের বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হওয়া জরিপের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই র‍্যাঙ্কিংয়ে “পাওয়ার” ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৭তম, আর সামগ্রিক অবস্থান ছিল ৭১তম।

আগের র‍্যাঙ্কিংগুলোর প্রেক্ষাপট
ইউএস নিউজের পূর্ববর্তী র‍্যাঙ্কিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ “পাওয়ার” ক্যাটাগরিতে ৪০তম স্থানে ছিল এবং সামগ্রিকভাবে ৬৯তম। এর আগের বছর, ২০২২ সালে, “পাওয়ার” ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪৪তম, আর সামগ্রিক অবস্থান ছিল ৭১তম।

রিউমর স্ক্যানার আরও নিশ্চিত করেছে যে ইউএস নিউজ প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাদের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। ফলে ২০২৫ সালের র‍্যাঙ্কিং এখনও প্রকাশিত হয়নি। এটি সম্ভবত চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হবে।

১২৩তম অবস্থানের দাবি
একটি দাবিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ১২৩তম অবস্থান থেকে উন্নীত হয়ে ৪৭তম স্থানে এসেছে। কিন্তু ইউএস নিউজের র‍্যাঙ্কিংয়ে কখনোই ১২৩টি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বাংলাদেশ প্রথমবার র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় ২০২২ সালে, যখন তালিকায় ৮৫টি দেশ ছিল। ২০২৩ সালে তালিকায় ছিল ৮৭টি দেশ, আর ২০২৪ সালে ৮৯টি। ফলে এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

আসল সত্য
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সূত্র একটি ফেসবুক পেজ এবং একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট। ২০২৫ সালের র‍্যাঙ্কিংয়ের দাবি করে প্রথম পোস্টটি করা হয় ১০ ফেব্রুয়ারি Asian SEA Story নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। পরে, ৬ এপ্রিল Global Statistics নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবি প্রচারিত হয়। এর পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে।

সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশ সম্পর্কে এই দুটি দাবিই মিথ্যা। ইউএস নিউজের সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়, যা বিগত সরকারের সময় করা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি। অর্থাৎ, অন্তবর্তী সরকারের ৮ মাসে ১২৩ তম হতে ৪৭তম হওয়া কিংবা ৮ মাসে ৭ পিছিয়ে ৪৭তম হওয়া সংক্রান্ত দুটো দাবিই ভুয়া।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT