জুলকারনাইন সামির আলোচিত সেই পোস্টের বঙ্গানুবাদ (পর্ব-১) - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
Betify Casino en Ligne | Jouez sur Betify avec 1000 € রাবেয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বর্বরোচিত হামলা; রক্তাক্ত দৈনিক রাজবাড়ী কন্ঠের অফিস সহায়ক দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে নেই ভোগান্তি নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জমকালো আয়োজনে বুটেক্সে শুরু হলো অ্যালামনাই সুপার কাপ রাজবাড়ীর কালুখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু আইসিএমএবি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রাজবাড়ী সদরে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের সম্মাননা পেলেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হসপিটালে ছাত্র, শিক্ষক অবরুদ্ধ পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ঝলসে গেলেন মনিরা

সাংবাদিক জুলকারনাইন সামির আলোচিত সেই পোস্টের বঙ্গানুবাদ (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৪০৮ বার দেখা হয়েছে
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি, যার পোস্ট জন্ম দিয়েছে হাসিনা পতনের মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কিত নতুন আলোচনার,বাংলাদেশের সরকার পতন,পোস্টের বঙ্গানুবাদ শেষপর্ব
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি, যার পোস্ট জন্ম দিয়েছে হাসিনা পতনের মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কিত নতুন আলোচনার

ছাত্রদের আন্দোলনে কে কতটুকু ভূমিকা রেখেছিল, তা নিয়ে Students Against Discrimination (SAD) ও শিবিরের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। আমরা, আমার সঙ্গীরা ও আমি, সিদ্ধান্ত নিলাম আসল সত্য তুলে ধরা দরকার। যেহেতু আমি অন্য মহাদেশে থাকি এবং আন্দোলনের সময় হাজারো কাজে ব্যস্ত ছিলাম, তাই মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব আমার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন এক বন্ধুর (নারী) ওপর বর্তায়। তিনি বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। কীভাবে পুরো ঘটনা একসুতোয় গাঁথা হলো, সেটাই এখানে তুলে ধরছি…

২৬ জুলাই রাত ১০টা ১০ মিনিটে আমার সেই বন্ধু একটি বার্তা পান। বার্তাটি ছিল তার এক পরিচিতজনের কাছ থেকে, যেখানে চারজন আন্দোলনরত নেতার জন্য নিরাপদ আশ্রয় চাওয়া হয়েছিল। তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করছিল এবং সে সময় তারা একটি অ্যাম্বুলেন্সে আটকে ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কাছে অবস্থান করছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমার বন্ধু আমাকে ফোন করলেন, আর এভাবেই আমি সরাসরি ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। আমি তাকে পরামর্শ দিলাম আমাদের পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে, যাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আমার বন্ধু সেই কর্মকর্তা, যিনি তখন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, তাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস নিরাপত্তা আশ্রয় দিয়েছে, যেমন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপ অ্যাটর্নি জেনারেল ইমরান আহমেদ ভূঁইয়া, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বক্তব্যের বিরোধিতা করায় চাকরি হারান। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তখন দূতাবাসে কোনো রাষ্ট্রদূত ছিল না, আর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হাসিনা সরকারের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছিলেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে কিছু পরিচিতজনকে ফোন করে সাহায্যের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

আমার বন্ধু তখন তার অন্যান্য পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান খুঁজে পাননি। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ বাড়িতেই ছাত্রদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তবে ২০ মিনিটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সেই কর্মকর্তা ফোন করে জানালেন যে, গুলশানের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয়ে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে এবং সংস্থাটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের গ্রহণ করবেন। খবরটি পাওয়ার পর, আমার বন্ধু যে যোগাযোগ নম্বরটি পেয়েছিলেন, সেটিতে আমি কল করলাম। ফোনের অপরপ্রান্তে ছিলেন এক ছাত্র, সালমান, যার প্রকৃত পরিচয় ২৩ সেপ্টেম্বর আমরা জানতে পারি—তিনি আসলে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম।

আমি ঢাকায় আমার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবচেয়ে নিরাপদ পথ নির্ধারণ করি, যাতে চারজন আন্দোলনকারী গুলশান-২-এ পৌঁছাতে পারেন পুলিশের নজর এড়িয়ে। অবশেষে, দুটো রিকশায় করে তারা নিরাপদে নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছে যায়। রাত ১১টার মধ্যেই তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসে। তবে শর্ত ছিল, ২৮ জুলাই সকাল ৯টার মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ করবে, যাতে অফিস কর্মীরা আসার আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

২৭ জুলাই সন্ধ্যায় শহিদুল আলম ভাই ছাত্রদের খবর পান এবং তাদের নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নেন। পরবর্তী দুই দিন ধরে আমরা ভেবেছিলাম তারা নিরাপদেই আছে। এদিকে, সালমান আমাকে ফোন করে জানতে চায়, তারা কি আন্দোলন সংক্রান্ত একটি প্রদর্শনীর জন্য EMK সেন্টার কয়েক ঘণ্টার জন্য ভাড়া নিতে পারবে? আমি আমার বন্ধুকে বলি, সালমানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা জানার জন্য তার সঙ্গে কথা বলতে। সালমানের পরিকল্পনা শুনে আমার বন্ধু AFP-এর ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম ও মানবাধিকার কর্মী রেজাউর রহমান লেনিনের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, EMK সেন্টার ব্যবহার করা সম্ভব নয়, কারণ এর জন্য নিরাপত্তা ছাড়পত্র লাগবে, এবং দ্রিক গ্যালারিও ১০ আগস্টের আগে এই ধরনের কোনো আয়োজনের অনুমতি দেবে না। তাই এই পরিকল্পনা সেখানেই বাতিল হয়ে যায়।

২৮ জুলাই দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে সালমান আবার আমার বন্ধুকে বার্তা পাঠায়, আবদুল কাদেরের জন্য নিরাপদ আশ্রয় চেয়ে। আমার বন্ধু বার্তাটি আমাকে পাঠান, আর আমি দূতাবাসে কর্মরত এক পরিচিতজনের সঙ্গে কথা বলি। তিনি রাজি হন কাদেরকে তার গুলশানের বাসায় আশ্রয় দিতে, যা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের খুব কাছেই। তবে তাকে ৪টার পর নিতে হবে, কারণ তখন তার অফিস শেষ হবে। আমি আমার বন্ধুকে বললাম সমন্বয় করতে।

কাদের তখন শনির আখড়ায় ছিলেন, এবং ৬টার কারফিউয়ের আগে গুলশানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ত। তাই সিদ্ধান্ত হয়, কাদের মাঝপথে আসবেন। এভাবেই বিএনপির তারেক রহমান এই ছাত্রদলের গতিবিধির খবর পেতে শুরু করেন, যার সমন্বয় করছিলেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা মীর হেলাল, যিনি কাদেরের আশ্রয়দাতার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

রাতে আমরা জানতে পারি, SAD-এর ছয়জন মূল সমন্বয়কারী—নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, সার্জিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবু বকর মজুমদার ও নুসরাত তাবাসসুম—ডিবি অফিসে গিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা হতবাক হয়ে যাই। রাত ৯:৫০-এ সালমান আমার বন্ধুকে জানায়, আন্দোলন চালিয়ে যাবে কাদের, হান্নান, রিফাত ও মাহিন। আমি পরামর্শ দিই, তারা যেখানে আছে, সেখান থেকেই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করুক। সালমান আমাদের বক্তব্য পাঠিয়ে দেয়, আমার বন্ধু সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন, আর আমি সম্পাদনা করি। তবে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জানতে পারি, ছাত্রদের চিন্তাধারার দলটি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ একমাত্র দাবি করবে, নাকি আগের নয় দফা দাবিতেই অটল থাকবে। শেষ পর্যন্ত তারা নয় দফা দাবিতেই স্থির থাকে।

২৯ জুলাই বিকেল ৪:৫০-এ সালমান আবার আমার বন্ধুকে ফোন করে জানায়, হান্নান, রিফাত, মাহিন ও মেহেদির (পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আব্দুল গাফফার জিসান) জন্য নিরাপদ আশ্রয় দরকার। তারা গুলশানের নর্থ এন্ড কফি রোস্টার্সে বসে ছিল, কিন্তু কারফিউ শুরু হওয়ার আগে সরে যায়। আমার বন্ধু তার পরিচিতদের সাহায্যের জন্য ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ভাবেন, হয়তো নিজের অফিসে তাদের লুকিয়ে রাখতে পারবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা করতে হয়নি, কারণ ফাহিম আহমেদ ও আন্দালিব চৌধুরী তাদের বাসায় আশ্রয় দিতে রাজি হন।

ততক্ষণে নর্থ এন্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই ছাত্ররা বনানীর একটি কোচিং সেন্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়। আন্দালিব, যিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এবং ১৮ জুলাই থেকে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, ছাত্রদের বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু আমার বন্ধু চূড়ান্তভাবে তাদের জন্য বিকল্প আশ্রয় খুঁজতে থাকেন।

অবশেষে রাত ৭:২৯-এ আমার এক পরিচিত জানান, পুরান ঢাকায় একটি নিরাপদ আশ্রয় মিলেছে। ছাত্রদের বনানী থেকে পুরান ঢাকায় নেওয়া কঠিন ছিল, তাই রেজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, এবং তিনি রাজি হন। আমি আরও একটি বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করি, মিরপুর DOHS-এ। বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ওয়াহিদ আলম এতে সাহায্য করতে রাজি হন, এবং আমি তার যোগাযোগের তথ্য আমার বন্ধুকে পাঠাই, যেন প্রয়োজনে কাজে লাগে।

  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর সর্বশেষ নিউজ পড়তে ক্লিক করুন: সর্বশেষ
  • দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেজটি ফলো করুন: dailysabasbd

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT