নোটিশ:
শিরোনামঃ
চিকিৎসার ব্যয়ে দারিদ্র্য: স্বাস্থ্যসেবায় আর্থিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, সমর্থন কমেছে হাইতিতে প্রায় ৫৯ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে: জাতিসংঘ-সমর্থিত মূল্যায়ন ২০২৭ সালের মার্চ–এপ্রিলে ব্যাংক খাতে দৃশ্যমান উন্নতির আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি অর্থবছরে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে প্রস্তুত জেলেরা উচ্চশিক্ষায় টেলিভিশন চ্যানেল ও ১৮০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা ইউজিসির চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত নামানোর নির্দেশ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছানোর লক্ষ্য চিকিৎসার নিজস্ব ব্যয়ে ১৭ বছরে দারিদ্র্যে পড়েছেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ: গবেষণা

বর্ষার মাঝেও পানির সংকট, পাট জাগ দিতে দিশেহারা কুড়িগ্রামের কৃষক

মোঃ জাকারিয়া হোসেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৪ বার দেখা হয়েছে
পাট জাগ দিতে পানির সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষক

বর্ষা মৌসুম চললেও পর্যাপ্ত পানি নেই কুড়িগ্রামের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে। ফলে পাট জাগ দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। অনেক কৃষককে বাড়ি ও জমির কাছাকাছি পানি না পেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে কাটার পর দ্রুত জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না থাকায় কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পাট এভাবে পড়ে থাকায় আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক আব্দুল মমিন ও বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালেই সহজে পাট জাগ দেওয়া যেত। কিন্তু এবার অনেক খাল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি নেই। যেসব জলাশয়ে পানি রয়েছে, সেখানেও অন্যের পাট জাগ দিতে অনেকেই আগ্রহী নন। ফলে দূরের জায়গায় পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছি। পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। পানির সংকটসহ নানা কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজারহাট আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। কখনো বৃষ্টির পরিমাণ কমছে, আবার কখনো অস্বাভাবিক সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি জমছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

এদিকে কৃষি কার্যালয় কৃষকদের সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পানির সংকট মোকাবিলা করে পাটের আঁশের গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT