আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেবে অস্ট্রেলিয়া। সোমবার (১১ আগস্ট) ক্যানবেরায় এক যৌথ বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
অ্যালবানিজ বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান, গাজায় যুদ্ধবিরতি, ও জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের নীতিগত অঙ্গীকার। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সহিংসতা ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। এর মাধ্যমে গাজায় অনাহার, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডার পর অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে এবং ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান কঠোর করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে সক্ষম হলে সরকার এই স্বীকৃতি কার্যকর করবে। বিশেষত, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না—এই শর্ত অপরিহার্য।
গাজায় সামরিক নীতির পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধান জরুরি বলে আলবানিজ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু সরকারের গাজার সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ ও গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। অস্ট্রেলিয়া বিশেষ করে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ছিল।
আলবানিজ বলেন, “নেতানিয়াহু সরকার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন থেকে অবহেলা করেছে এবং ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও সংযুক্তির হুমকি দিয়ে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। এই অবস্থা আমাদের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতির পথে আরও উদ্বুদ্ধ করেছে।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে গত মাসে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কো রুবিও সমালোচনা করেছিলেন, যেখানে রুবিও ফ্রান্সের সিদ্ধান্তকেও ‘বেপরোয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
অপরদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আমির মাইমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিরাপত্তা দুর্বল করে এবং জিম্মি মুক্তির আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও তা কার্যকর হতে হলে দুই পক্ষের মধ্যে কঠোর কূটনৈতিক সংলাপ এবং বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।