

ট্রাম্প তার পোস্টে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাকে ভেনেজুয়েলার ‘অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং সেখানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তার দায়িত্ব গ্রহণের কথাও লেখা রয়েছে। ছবিটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
এই দাবি আসে এমন এক সময়, যখন ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং ভেনেজুয়েলার তেল খাত ঘিরে ওয়াশিংটনের আগ্রহ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই পোস্টকে অনেকেই কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তবে বাস্তবতা হলো, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পক্ষে কোনো আইনি, সাংবিধানিক বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিংবা ভেনেজুয়েলার কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, দেশটির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হচ্ছে এবং ট্রাম্পের দাবির কোনো ভিত্তি নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এমন দাবি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কার্যকর নয় এবং এটি মূলত রাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ও সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল। ফলে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এই পোস্টকে অনেক পর্যবেক্ষক যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকা নীতির অংশ হিসেবেই দেখছেন।
ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকরা একে শক্ত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দাবি কূটনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তবে বাস্তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।