
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের শাহাজাহান দ্বীপ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত মো. হানিফ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্ববিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।
ঘটনার একদিন আগেই একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশুসহ দুইজন আহত হন। আহত শিশুটি—হুফাইজা আফনান—আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়ার ৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের নাফ নদ এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন জেলে আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি না করার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।
মাইন বিস্ফোরণের খবরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা টেকনাফ-হোয়াইক্যং সড়ক অবরোধ করেন। একইসঙ্গে গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনানের চিকিৎসা ও সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।
লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা শাকিল বলেন, “আমরা সকালে সীমান্তে গুলিতে আহত শিশুর চিকিৎসা ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম। এর মধ্যেই নাফ নদে মাইন বিস্ফোরণের খবর আসে। এতে মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরেই তীব্র সংঘাত চলছে। রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে এ সংঘর্ষ চলছে। সংঘাতের জেরে সীমান্তে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।