আগামী জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
ইরানের হামলায় তেল আবিবে আতঙ্ক: মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় রনিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে দেয় ছাব্বির কুবিতে প্রথমবার জাতীয় বিতর্ক উৎসব, অংশ নেবে ৫৬টি দল আত্রাইয়ে স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পরে স্বামীর আত্মহত্যা নিজ অফিসে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ মিছিল কুবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক ইবিতে শিক্ষিকা খুন, কর্মচারীর আত্মহননের চেষ্টা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুবিতে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আগামী জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩৬ বার দেখা হয়েছে

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আগামী জানুয়ারিতেই শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। দশ বছর মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনার প্রথম পাঁচ বছরে সেচ সুবিধা, ভাঙন রোধ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব চীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজও সম্পন্ন করেছে চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি দল। সংশ্লিষ্টদের আশা, সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

উত্তরের পাঁচ জেলায় প্রতিবছর ভয়াবহ ভাঙন ও প্লাবনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষা মৌসুমে তিস্তায় নেমে আসা অতিরিক্ত পানির প্রবাহে তলিয়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ভারত তিস্তায় একফোঁটা পানি ছেড়ে না দেওয়ায় চরম সেচ সংকট দেখা দেয়। এর ফলে কৃষিজ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রিভারাইন পিপলের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন ও বন্যায় উত্তরাঞ্চলের মানুষজনের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে বহু মানুষ হয়ে পড়েন বাস্তুচ্যুত।

চীনা দূতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের পরিচালক জং জিং জানিয়েছেন, এই প্রকল্প নিয়ে চীনের প্রতিনিধি দল স্থানীয় রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় কমিউনিস্ট পার্টি, বিভিন্ন নদী বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠন এবং তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। তিনি বলেন, যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেছেন, অববাহিকার মানুষদের নিয়ে তারা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতের আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি ঘটাতে পারেনি। তিনি মনে করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ অববাহিকার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি এই নদীর সঙ্গে যুক্ত। কৃষক, জেলে ও দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—তাদের সকলের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ওপর।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT