জানা গেছে, রাকসু প্রতিষ্ঠা (১৯৬২) থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী বা নির্বাচিত ভিপি দেখা যায়নি। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর বিরতির পর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তাসিন খান একাই নয়, ছাত্রী হলের একাধিক ছাত্রীও কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে তিনিই প্রথম।
রাকসু নিয়ে সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে রাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসিন খান বলেন, রাকসু নিয়ে যে পরিমাণ সম্ভাবনা এবং আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল তা দিন দিন কমে আসছে। আমি বিশ্বাস করি, রাকসু একটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করেই লেজুড়বৃত্তিক সংগঠনগুলোর মতামতের এবং দাবির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে তা খুবই হতাশাজনক। চতুর্থবারের মতো তফসিল পরিবর্তন, নির্বাচনের দিন পরিবর্তন এইগুলা আমাদের মনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
‘এছাড়া অন্যান্য সংকট তো আছেই। নির্বাচনের উপযুক্ত এবং সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। একজন নারী প্রার্থী হিসেবে এইটা আমার জন্য আরও ভয়াবহ প্রমাণ হতে পারে। এছাড়া সাইবার বুলিং রোধেও কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। শুধু প্রার্থীরাই নয় ভোটারদের নিরাপত্তাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। এগুলো খুবই হতাশার।’
জয়ের সম্ভাবনা তিনি বলেন, আমি আশাবাদী। আমার কাজ, ইশতেহার, অ্যাক্টিভিটি সবকিছু বিবেচনা করে যদি শিক্ষার্থীরা আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে তারা আমাকে নির্বাচিত করবে। সুতরাং জিতবো কি না সেই সমীকরণ না মিলিয়ে আমি কাজে ফোকাস করার চেষ্টা করছি। আমি নির্বাচিত হই বা না হই আমার ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তবে নির্বাচিত হলে তা ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করে যেতে পারব।
নারী প্রার্থী হিসেবে আপনার কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি খুব সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়ে। আমার কোনো সাংগঠনিক সাপোর্ট নেই, আমার বিশাল ফান্ডিং নেই, আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। অথচ একজন নারী প্রার্থী হওয়াই আমার বুলিং, হ্যারাসমেন্টসহ আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা বেশি। তবে আমি সব প্রতিবন্ধকতার সাথে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেখা যাক কতদূর যেতে পারি। জুলাইয়ে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে এসেছি। তাই মনে ভয় জিনিসটা কমই কাজ করে।
তিনি আরো বলেন, আমরা রক্তক্ষয়ী জুলাইয়ের সাক্ষী। আমি আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলাম। যখন আবাসিক হল বন্ধ করে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো, তখন আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদে যুক্ত হই। তখন মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিলাম। হয়তো আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না, হয়তো জীবন কাটাতে হবে জেলে বা পলাতক হয়ে। আমি বিশ্বাস করি ৫ আগস্টের পর আমি একরকম বোনাস আয়ুতেই বেঁচে আছি। সেই জুলাই আমাকে শিখিয়েছে, বিবেকের চেয়ে বড় কিছু নেই।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ৩১ আগস্ট বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ৮ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর এবং প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ সেপ্টেম্বর।