নোটিশ:

এক বছরের কার্যক্রমে কেমন ছিল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদযাত্রা

মাহমুদা নাঈমা, জাককানইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২৮ বার দেখা হয়েছে
জাককানইবি
ময়মনসিংহ বিভাগের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন গতবছরের (২০২৪) ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ।এরপর থেকে দায়িত্বের সাথে মনোনিবেশ করেন একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে, নির্ধারিত করেন নানা লক্ষ্য, অর্জন করেন সফলতা।বলছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কথা।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে শিক্ষাঙ্গনটির সার্বিক পরিবেশ শৃঙ্খলায় এনে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্তিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণার্থে দিনের পর দিন সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। সরেজমিনে গিয়ে,বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে গিয়ে তাদের সমস্যা ও করণীয় ঠিক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ‘দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন’ ও কর্মচারী কোয়ার্টার ‘বন্ধন’ উদ্বোধন,নবনির্মিত কলা ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন, নজরুল ভাস্কর্য ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার কাজ সম্পন্ন, মসজিদে এয়ার কন্ডিশন লাগানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, মেডিকেল সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় গেইট, টিএসসি ভবন, দশ তলা বিশিষ্ট ছাত্র হল ও ছাত্রী হল, দশ তলা বিশিষ্ট ইন্সটিটিউট ভবন এবং পাঁচ তলা বিশিষ্ট কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্নের ব্যবস্থা করছেন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং ওরিয়েন্টেশন প্রোগামেই শিক্ষার্থীদের হাতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার তুলে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের অংশগ্রহণে তৃতীয় গবেষণা মেলা আয়োজন করেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা, সেমিনার, আলোচনা সভাসহ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা নববর্ষ, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন, জুলাই ৩৬ কর্ণার উদ্বোধন, জুলাই আন্দোলনে ত্রিশালের শহিদ ইনতিশারুল হক এর কবর জিয়ারতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। কবর জিয়ারত শেষে শহিদ ইনতিশারের চাচা মো. নাজমুল হকের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য। এছাড়া নজরুল জয়ন্তী, রবীন্দ্র জয়ন্তী, প্রয়াণ দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।

তাছাড়াও সৌন্দর্যবর্ধণে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাইট লাগিয়ে আলোকিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সর্বরাহে ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সর্বরাহ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনার কাজ সম্পন্নের পথে।
একইসাথে দেশ-বিদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে একসাথে কাজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও আকিজ রিসোর্স দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও মালয়েশিয়ার লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এগিয়ে আসেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আহত শিক্ষার্থী শাহজালাল আহমেদ জনিকে।
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ত্রিশালের মোফাজ্জলের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তায় চেক প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ক্যান্সারাক্রান্ত তৌহিদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তীর্থ দাসের নিকট অটোমেটিক হুইল চেয়ার হস্তান্তর করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পাশাপাশি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ বৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষার্থী গবেষকদের গবেষণা প্রকল্পের চেক প্রদান করা হয়। কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে সঠিক সময়ে পুস্তক বিতরণ, বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও বৃত্তি প্রাপ্তদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো গতিশীল করার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ ও পর্যায়োন্নয়ন প্রদান করা হয়। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে পদ ছাড়করণের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে একাধিকবার পত্র প্রেরণের সাথে সাথে যোগাযোগও করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন মাননীয় উপাচার্য। প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই-আগস্ট শহিদ স্মরণে আন্ত:বিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা, আন্ত: অনুষদ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, আন্ত: বিভাগ (ছাত্র) ও আন্ত:অনুষদ (ছাত্রী) ক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতাকাপ আন্ত: বিভাগ(ছাত্র-ছাত্রী) ভলিবল প্রতিযোগিতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সকলের অব্যাহত সহযোগিতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সকল ক্ষেত্রেই পূর্বের চেয়ে বাজেট ঘাটতি থাকায় আমাদের অনেক হিসেব-নিকেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হচ্ছে। তবে আমরা সকল পর্যায়ে সরকারের স্বল্প বরাদ্দের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছি।”

দায়িত্ব সচেতনতা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারার জন্য দিনকে দিন প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের গ্রহণযোগ্যতা শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT